১৯, এপ্রিল, ২০২১, সোমবার

সড়কে বাঁশ ফেলে চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

যানবাহন ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিলেট নগরী ও শহরতলীর প্রতিটি প্রবেশমুখ ও মোড়ে বাঁশ ফেলেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি বিধি-নিষেধ মানাতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, বিধিনিষেধ মানাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তারা। নগরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল।

চলমান বিধি-নিষেধের ষষ্ঠ দিনে সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট নগরের আম্বরখানা, টিলাগড়, সোবহানীঘাট, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, তেমুখী, টুকেরবাজার, মজুমদাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব এলাকায় গেলে দেখা যায়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে যানবাহন ও মানুষজনকে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। চলাচল নিয়ন্ত্রিত করতে সড়কের মোড়ে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। বের হওয়া মানুষজনকে পড়তে হয়েছে পুলিশি জেরার মুখে। যারা মুভমেন্ট পাস দেখাতে পারছেন কেবল তাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। বাকিদেরকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইন ভঙ্গ করার দায়ে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। জব্দ করা হচ্ছে যানবাহন।

নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় গেলে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের প্রবেশদ্ধার এই পয়েন্টে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। সড়ক দিয়ে চলচলকারি যান ও মানুষদেরকে আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জানা হচ্ছে বাইরে বের হওয়ার কারণ। যারা সন্তুষজনক উত্তর দিচ্ছেন কেবল তাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছেঅ বাকিদের সতর্ক করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ জানায়, লকডাউন শুরুর দিন থেকে আজ সোমবার মোট ১৯১টি মামলা হয়েছে। পাশাপাশি ২৩৩ টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। সিলেট মহানগরের প্রবেশমুখে ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্রাফিক বিভাগের ৬টি চেকপোস্ট এবং নগরের ভেতরে আরো ১৪টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এদিকে বাঁশের ব্যারিকেড, মামলা, জরিমানা আর চেকপোস্ট বসিয়েও মানুষের বাইরে বের হওয়া থামানো যাচ্ছে না। মূল সড়ক বন্ধ থাকলেও অন্য সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলাচল কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে তা বাড়তে থাকে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, মূল সড়কের ব্যরিকেড দিয়ে আটকানো থাকলে ফাঁড়ি পথ ব্যবহার করছেন বেশিরভাগ। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারি বিধিনিষেধ যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া জানিয়েছেন, গত সিলেট বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় মারা গেছেন ৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১২৭ জন।

এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, এনিয়ে সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৬৪ জনে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪ জনে। করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৪৫ জন। আর এ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩১৮ জন।

সর্বশেষ নিউজ