১৪, জুন, ২০২১, সোমবার

হত্যার পর ডা. সাবিরাকে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়!

রাজধানীর কলাবাগানের বাসা থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক সাবিরা রহমান লিপির (৪৭) রক্তাক্ত ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, অগ্নিকাণ্ড নয়, এটি হত্যাকাণ্ড। যা রবিবার (৩০ মে) মধ্যরাতের কোনো এক সময় সংঘটিত হয়েছে।

নিহত ডা. সাবিরার মামা হারুন অর রশীদ মৃধা অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, আজ সকালে ফোনে জানতে পারি আমার ভাগনি কাজী সাবিরা রহমান লিপি মারা গেছে। এরপর এই বাসায় এসে দেখি লিপির রুমে ছাই পড়ে আছে। এটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে যাতে করে মানুষ মনে করে, সে আগুনে মারা গেছে। কিন্তু এটা সত্য নয়। লিপির ঘাড়ে ও পেছনে কোপের দাগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করতে এসে জানায়, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানার তোশকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে দাহ্য পদার্থ না থাকায় আগুন তেমন ছড়াতে পারেনি। তবে, সাবিরার শরীরের কিছু অংশ দগ্ধ হয়।

সোমবার (৩১ মে) দুপুরে কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্ট লেন ভবনের নিজ বাসা থেকে লিপির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তা ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

লিপি এই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। তার স্বামী শামসুর আজাদ একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন, থাকেন শান্তিনগরে।

সার্বিক বিষয়ে ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, ডা. সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্টলেনের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি ফ্ল্যাটের দুটি রুমের একটি রুম এক তরুণীকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দেন। সকালে সাবলেটে থাকা তরুণী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। হেঁটে আসার পর তিনি বাসায় ফিরে দেখেন চিকিৎসক সাবিরার রুম বন্ধ। রুমের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে তিনি দারোয়ানকে ডেকে চাবি এনে রুমের তালা খুলে দেখতে পান চিকিৎসক সাবিরা ফ্লোরে পড়ে আছেন। সবাই ভেবেছিলেন, চিকিৎসক আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। পরে ডিবি পুলিশ এসে তার গলায় একটি ও পিঠে দুটি আঘাতের চিহ্ন পায়।

আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি, দ্রুত রহস্য উদঘাটন করতে পারব বলেন ডিসি আজিমুল হক।

এ চিকিৎসক নিহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে হেফাজতে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তারা হলেন- সাবলেট থাকা এক শিক্ষার্থী, তার এক বন্ধু ও বাড়ির দারোয়ান রমজান।

সর্বশেষ নিউজ