২১, জানুয়ারী, ২০২২, শুক্রবার

হানাদার মুক্ত দিবস আজ!

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছিল নরসিংদী।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি নরসিংদীবাসীর কাছে গৌরবোজ্জ্বল ও স্মরণীয় দিন। এ দিনে সম্মিলিত মুক্তি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে নরসিংদী শহরসহ গোটা জেলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হন ১১৬ জন বীর সন্তান। এরমধ্যে রয়েছেন নরসিংদী সদরের ২৭ জন, মনোহরদীর ১২ জন, পলাশের ১১ জন, শিবপুরের ১৩ জন, রায়পুরার ৩৭ ও বেলাব উপজেলার ১৬ জন।

১৯৭১’র পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা মনে করে এখনো ভয়ে আঁতকে উঠেন নরসিংদীবাসী। স্বজন হারানোদের কান্নায় এখনো ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার স্বাক্ষী অনেক গণকবর রয়েছে নরসিংদী জেলাজুড়ে।

৪ এপ্রিল পাকবাহিনীর বোমার বিমান নরসিংদী শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে। তখন গোটা শহরে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পাকবিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণে শহীদ হন আব্দুল হক ও নারায়ণ চন্দ্র সাহাসহ নাম না জানা আরো ৮ জন।

২৩ মে তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা মিয়া আব্দুল মজিদ মুক্তি সেনাদের গুলিতে নিহত হন। এর পরেই পাক বাহিনী নরসিংদী টেলিফোন ভবনে ঘাঁটি স্থাপন করে। স্থানীয় দালাল ও রাজাকারদের যোগসাজসে হানাদার বাহিনীরা প্রতিদিন চালায় ধর্ষণ, নরহত্যা ও লুটতরাজ। বাংলার মুক্তি পাগল ছেলেরা আঘাত হানে শত্রু শিবিরে। নরসিংদী সদর উপজেলায় নেহাব গ্রামের নেভাল সিরাজের নেতৃত্বে হানাদার প্রতিরোধ দূর্গ গড়ে তোলা হয়। ওই স্থান থেকে সমগ্র জেলায় মুক্তিযোদ্ধারা নিরলসভাবে তৎপরতা অব্যাহত রাখে। মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধে টিকতে না পেরে অবশেষে ৭১’ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নরসিংদী মুক্ত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদী জেলা ছিল ২নং সেক্টরের অধীনে, সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ। নরসিংদীকে ৩ নং সেক্টরের অধীনে নেওয়া হলে কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মো. নূরজ্জামান।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে খেতাব ভূষিত হয়েছেন নরসিংদীর ৬ জন। তারা হলেন, ফ্লাইট লে. শহীদ মতিউর রহমান বীরশ্রেষ্ঠ, নেভাল সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বীরপ্রতিক, লে. কর্ণেল আব্দুর রউফ বীর বিক্রম, সুবেদার খন্দকার মতিউর রহমান বীর বিক্রম, বিগ্রেডিয়ার (অব.) এ.এস.এম নুরজ্জামান বীর বিক্রম ও লে. কর্ণেল (অব.) নুরল ইসলাম ভূইয়া বীর বিক্রম।

নরসিংদী মুক্তদিবস উপলক্ষে আজ স্থানীয় প্রশাসন ও নরসিংদী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর পক্ষ থেকে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ