৪, আগস্ট, ২০২১, বুধবার

হাসিনাকে তওবা করার আহ্বান জানালেন ইসলামী সংগঠন গুলো

পবিত্র কুরআনের কোথাও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা নেই বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন। ওই বিবৃতিতে তারা শেখ হাসিনাকে তওবা করারও আহ্বান জানান।

গতকাল পৃথক বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কিছু নেই। কুরআনের যেসব আয়াত দ্বারা নিরপেক্ষতার কথা বলা হয় সেটি সঠিক নয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। সার্বজনীন ও কল্যাণকামী ধর্ম ইসলাম। ইসলামই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের আবরু-ইজ্জতের নিরাপত্তা দিয়েছে। ইসলামই আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন বিধান। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনুল কারিমের সূরা আলে ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াতে বলেন, যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইসলামী জীবনব্যবস্থায় মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন একমাত্র কল্যাণ নিহিত। ইসলাম ও কুরআন মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। ধর্মহীনতা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সূরা কাফিরুনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম।’ এ কথার দ্বারা অন্য ধর্মের অনুমোদন দেয়া হয়নি বরং তারা (কাফেররা) যে সমঝোতার প্রস্তাব করেছিল সেটাকে সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমাদের দ্বীন ও ধর্ম কুফর ও শিরক আর আমার দ্বীন ও ধর্ম তাওহিদের ও একত্ববাদের। এ আয়াতের আরেকটি ব্যাখ্যা হচ্ছে, তোমাদের কর্মফল তোমাদের ভোগ করতে হবে এবং আমার কর্মফল আমি ভোগ করব। যারা এ আয়াত দ্বারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা কুরআনে আছে বলে প্রচার করেন তাদের এ দাবি সঠিক নয়।

বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী, নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী, মহাসচিব শায়খুল হাদিস মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, সিনিয়র সহসভাপতি শায়খুল হাদিস মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি : জাতীয় সংসদে বাজেটের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ‘পবিত্র কুরআনে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ আছে’ মর্মে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

গতকাল এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কুরআনের সুস্পষ্ট বিকৃতি ছাড়া অন্য কিছু নয়। বিশ্বের সব স্বীকৃত ইসলামী স্কলারদের সম্মিলিত মত অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ একটি সম্পূর্ণ কুফরি মতবাদ। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটিও এমন যে কম পড়–য়া লোকজনও এর অর্থ বুঝে নিতে পারবে। এটি একটি টার্ম। ইংরেজি Secularism শব্দের বাংলারূপ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। বাংলা একাডেমির ইংলিশ-বাংলা ডিকশনারি ২০১২ সালের জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সম্পাদনায় ছাপানো সংস্করণে Secular-(অর্থ) পার্থিব, ইহজাগতিকতা, জড়, জাগতিক বলা হয়েছে।

তাতে আরো বলা হয়েছে, Secular State ‘গীর্জার সাথে বৈপরিত্যক্রমে রাষ্ট্র’। এ অর্থ অনুযায়ী মুসলিম দেশে এর ব্যাখ্যা হবে মসজিদের সাথে বৈপরিত্যক্রমে রাষ্ট্র। Secularism নৈতিকতা ও শিক্ষা ধর্মকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়-এ মতবাদ। তারা ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়’ এমন কথা লেখেননি। ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা ও উইকিপিডিয়াতেও একই ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। উপরন্তু উইকিপিডিয়াতে সেকুলারিজমের ব্যাখ্যা করা হয়েছে Anti Islam দিয়ে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কিছু নেই। ইসলামের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর কালাম কুরআন মাজিদ। কুরআনে কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর তাদের মাঝে আপনি ফয়সালা করুন ওই আইন দ্বারা, যা আপনার প্রতি আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেছেন। [সূরা মায়েদা : ৪৯] অন্যত্র আছে- যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না তারা জালিম … তারা কাফির … তারা ফাসিক। [সূরা মায়েদা : ৪৪, ৪৫ ও ৪৭] এ তিনটি আয়াতে সুস্পষ্টভাবে আল্লাহর বিধান ভিন্ন ফয়সালাকারীকে জালিম, কাফির ও মুনাফিক বলা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য ইসলামের সুস্পষ্ট বিকৃতি, হঠকারিতামূলক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ। তাকে অবিলম্বে তওবা করে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

বিবৃতি প্রদানকারী নেতৃবৃন্দ হলেন, পার্টির আমির আল্লামা সরওয়ার কামাল আজিজী, সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, নায়েবে আমির আলহাজ আবদুর রহমান চৌধুরী, মুফতি মুহাম্মাদ আলী কাসেমী, হাফেজ মাওলানা সালামাতুল্লাহ, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।- সংবাদ247

সর্বশেষ নিউজ