১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি মাদরাসায় ৮ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে মায়ের কাছে যাওয়ার অপরাধে নির্মমভাবে পিটিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষক। নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকে হাজার হাজার মানুষ ওই ভিডিও শেয়ার করেন। এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের মারকাজুল কোরআন ইসলামিক একাডেমিতে অভিযান চালিয়ে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মো. ইয়াহইয়াকে আটক করে পুলিশ।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রশাসন আটক করলেও রাত ২টা পর্যন্ত উপজেলা অফিসে অবস্থান করে সেই হুজুরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান নির্যাতিত শিশুর মা-বাবা।

জানা গেছে, হাটহাজারীর পৌর এলাকার মারকাজুল কোরান ইসলামি একাডেমি মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু ইয়াসিন। সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ জয়নাল মাদরাসায় তাদের সন্তানকে দেখতে যান।

কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে চলে আসে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাদরাসার হুজুর ইয়াহিয়া।

মা-বাবার সঙ্গে মূল ফটকের বাইরে কেন গিয়েছে শুধু এই ঘটনার সূত্র ধরে শিশুটিকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটান শিক্ষক ইয়াহিয়া। শিক্ষার্থীদের কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে, এই নির্মম নির্যাতনে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেন নেটিজেনরা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেন,‘এসব শিক্ষক নামধারীরা মানুষ না পশু? ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আরিফ জেবতিক তার ফেসবুক ওয়ালে ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে লিখেন,‘এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে কথা বলা নিষেধ!’ এরা কি মানুষ গড়ার কারিগর না মানুষ মারার কারিগর? এই নিরীহ শিশু বাচ্চাটির উপর তার এত রাগ, এত ক্রোধ কেন?’

ফেসবুক ব্যবহারকারী সাজ্জাদ মাহমুদ লিখেন,‘ছাত্র দোষ করলে এভাবে মারধর কখনো শাসন হতে পারে না। এখানে যা করা হচ্ছে তা পুরোপুরি জুলুম। কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।

’ এভাবেই যখন পুরো দেশ এমন নির্মম নির্যাতনে প্রতিবাদে সরব, তখন নিজ সন্তানের প্রতি এমন অমানবিক আচরণের বিচার চান না ওই শিশুর মা-বাবা!

উপরন্তু উপজেলা প্রশাসন এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করলেও রাত দুইটা পর্যন্ত উপজেলা অফিসে অবস্থান করে সেই হুজুরকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ‘স্থানীয় একজন আমাকে শিশুটিকে প্রহারের ঘটনা জানান। ইতোমধ্যে বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

আমি তাৎক্ষণিক হাটহাজারী থানার একটা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে চকলেট নিয়ে যাই। বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলি এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব এমন সময় ছাত্রের বাবা-মা এসে কান্নাকাটি করে বসেন এবং শিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান।’

তিনি বলেন,‘ভোত্তাভুগীর মা-বাবা কিছুতেই মামলা করবেন না এবং আমাদেরকেও আইনগত ব্যবস্থা না নিতে অনুরোধ করেন। তাদেরকে অনেক বুঝানো সত্ত্বেও তারা লিখিতভাবে আমাদের অনুরোধ করেন আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য। রাত ২টা পর্যন্ত অভিভাবকেরা আমার কার্যালয়ে অবস্থান করেন যেনো আইনি ব্যবস্থা না নিই।’

রুহুল আমিন বলেন,‘আমি রাত ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি এই ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য। মামলার খরচসহ আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়ার পরেও লেখাপড়া না জানা শিশুটির মা-বাবা কোনোভাবেই অভিযোগ দায়েরে রাজি হয়নি।

হাফেজি মাদরাসাগুলোতে এভাবে নির্মম নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু কেউ অভিযোগ দায়ের করেন না। এটি আমাদের সমাজের জন্য বৈকল্যতার প্র্য়াস’

সর্বশেষ নিউজ