৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

১১শ কোটি টাকা প্রতারণা ই-অরেঞ্জের , আদালত প্রাঙ্গণে গ্রাহকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ই-অরেঞ্জের ১১শ’ কোটি টাকা প্রতারণার পেছনের মদদদাতা হিসাবে পুলিশের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তারা ছোট বোন হলেন ই-অরেঞ্জের অন্যতম মালিক সোনিয়া মেহেজাবিন।

সোমবার (২৩ আগস্ট) সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানসহ তিন জনকে রিমান্ডের শুনানির জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে ই-অরেঞ্জের প্রতারিত গ্রাহকরা আদালত চত্বরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. আলমগীর জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গত ১৯ আগস্ট ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। ওইদিন বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন। রোববার রিমান্ড শুনানিতে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া আসামিদের ৫ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। রিমান্ডে পাওয়া আসামিরা হলেন- ই-অরেঞ্জের অন্যতম মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট তাহেরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় ই-অরেঞ্জের পাঁচ মালিক-পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর ‘ই-অরেঞ্জ’ এর মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলায় সোনিয়া, মাসুকুর ও আমানউল্লাহ ছাড়াও বিথী আকতার, কাওসারসহ ‘ই-অরেঞ্জ’ এর সব মালিককে আসামি করা হয়েছে। তবে ওই কোম্পানির মালিকানায় কতজন রয়েছেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ১৮ আগস্ট রাতে গুলশান এলাকা থেকে আমানউল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে আসামিরা পণ্য সরবরাহ না করে এক লাখ গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য বুঝে না পাওয়ায় এর আগে ১৬ অগাস্ট দিনভর ই-অরেঞ্জের গুলশান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের প্রতারণার শিকার শতাধিক গ্রাহক ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সকাল থেকে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা আদালত চত্বরে প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা বলেন, ই-অরেঞ্জের মালিক মেহেজাবিনের বড় ভাই শেখ সোহেল রানা বনানী থানার একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। টাকা আত্মসাতের পেছনে তার বড় ভাইয়ের যোগসাজশ রয়েছে। মামলা দায়ের করার আগেও ই-অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট থেকে শেখ সোহেল রানা ২৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। আমাদের টাকা ই-অরেঞ্জকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে শতাধিক গ্রাহক মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। শুনানির সময় তারা আদালতের এজলাসের সামনে অবস্থান নেন। শুনানি শেষে সিএমএম আদালতের নিচে তারা বিভিন্ন শ্লোগান দেন ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের শান্ত থাকতে বলেন।

বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানার যোগসাজশ থাকার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রাহকরা মামলায় আসামিদের নাম দিয়েছে। এর মালিক মেহজাবিন ও তার স্বামীকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে। এছাড়া এই মামলার আরেক মালিক আমানুল্লাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। রিমান্ড প্রাপ্ত মেহেজাবিনের বড় ভাই বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা। তবে এই প্রতারণার সঙ্গে তার যদি কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলে, সে ব্যাপারে মামলা অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। মালিকানার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে ট্রেড লাইসেন্স-সংক্রান্ত কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে। অনুমতি পেলে ব্যাংকের হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করে অন্যান্য লেনদেনের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

সর্বশেষ নিউজ