২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

৫০% নয়, শতভাগ শ্রমিকেই কারখানা চালাতে চান পোশাক মালিকরা

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সোমবার (২৯ মার্চ) সরকারের পক্ষ থেকে যে ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, সেখানে ১৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানাসমূহ ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। গর্ভবতী/অসুস্থ/বয়স ৫৫ ঊর্ধ্ব কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু ৫০ ভাগ নয়, শতভাগ জনবল নিয়েই প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, অর্ধেক জনবল দিয়ে কারখানা পরিচালনার নির্দেশনাটি তৈরি পোশাক খাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে কারখানাগুলোতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

বিজিএমইএ গতকাল এক নির্দেশনায় বলেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনার প্রথম ঢেউয়ে পোশাকশিল্পে সংক্রমণের হার ছিল খুবই সামান্য, অর্থাৎ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে আশা করা যায়।

এক্ষেত্রে কারখানা খোলা ও ছুটির সময় শ্রমিকদের ভিড় এড়াতে প্রবেশ ও ছুটির ভিন্ন ভিন্ন সময় নির্ধারণের ওপর জোর দেয়ার অনুরোধ করেছে বিজিএমইএ।

এদিকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানালেও শ্রমসচিব কে এম আবদুস সালাম গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে শ্রম অধিদফতর ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরে (ডিআইএফই) নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। ব্যতিক্রম কিছু হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

একইদিন রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিজিএমইএ’র নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ফোরামের ইশতেহার ঘোষণা শেষে সংগঠনটির সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, ‘আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা সব শ্রমিক নিয়েই উৎপাদন চালাতে পারবো। তবে সবাইকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’

গেল বছর করোনা দেশে করোনা মহামারি যখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল তখন পোশাক কারখানায় ছুটি ও হঠাৎ খুলে দেয়ার ‘আনাড়ি’ সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র জীবিকার তাগিতে শত মাইল পথ পায়ে হেঁটেও অনেক পোশাক শ্রমিক কারখানার কাজে যোগ দেয় তখন। এছাড়া বহু শ্রমিক ছাঁটাইয়েরও শিকার হয়।

সর্বশেষ নিউজ