১৮, জানুয়ারী, ২০২১, সোমবার

গোসাইরহাটে সাব রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

নাছির আহম্মেদ আলী,শরীয়তপুর: গোসাইরহাট উপজেলা সাব- রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে সাব-কবালার দলিল আটকে রেখে প্রকাশ্যে ঘুষ, দুনীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটিসাব কবলা দলিল অছিয়ত, উইল ও আমমোক্তারনামা দলিল করার ক্ষেত্রে নগদ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় সাব-রেজিস্টার খাযরুল বাশার পাভেলকে। টাকা না দিলে কোন দলিলে স্বাক্ষর করেন না তিনি। তার এই অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আই জি আর (মহাপরিদর্শক রেজিষ্ট্রেসন বিভাগ) বরাবরে লিখিত আবেদন করে ও কোন সুরাহা পায়নি বলে গোসাইরহাট উপজেলা সাব-রেজিষ্টি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান রাঢ়ী জানিয়েছেন।

গোসাইরহাট উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান রাঢ়ী, শহীদুল ইসলাম, অনিল কর্মকার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৪ জুন মাসে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলা সাব- রেজিষ্ট্রার খায়রুল বাশার ভুইয়া পাভেল যোগদান করেন। তিনি যোগদান করার পর থেকেই ঘুষ, দুনীতিসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। অছিয়ত, আমমোক্তারনামা দলিল করার ক্ষেত্রে নগদ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা না দিলে কোন দলিলেই সই করেন না। তিনি তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেন দলিল এবং তখন তিনি খাস কামরায় চলে যান। তার অফিস সহকারী নজরুল ইসলামসহ লোকজনের মাধ্যমে উৎকোচ গ্রহন করার পর সে দলিলে সাক্ষর করেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারলে দলিল হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি ও তার কর্মচারীরা। তার নিজস্ব কর্মচারী মাধ্যমে তিনি তার এসকল অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলিল লেখক ও সাধারন সেবা প্রত্যাশিতরা জানান।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায় ও স্থানীয় হাজী আবদুর জব্বার দেওয়ারসহ একাধি ভোক্তভূগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অসুস্থ্য রোগীসহ বিভিন্ন কারনে সরকারের নিধার্রিত ফি এর মাধ্যামে কমিশন করার ব্যবস্থার নিয়ম থাকলেও তিনি সেখানে ১০ থেকে ২০ গুন টাকা আদায় করে থাকেন। সরকারের নিধার্রিত ফি জমা দেয়ার পর প্রতিটি দলিলে ১ থেকে ২ % করে নগদ টাকা না দিলে তিনি দলিল আটকে রাখেন। এতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হয় সেবা প্রত্যাশীরা।
২০২০ সালের ১১ জুন গোসাইরহাট উপজেলার নাগের পাড়া ইউনিয়নের মাছুয়া খালী এলাকার মৃত সিরাজুল হক বেপারীর ছেলে শহীদুল ইসলাম বেপারী একটি দলিল হয়। সেই দলিলে নগদ ৮০ হাজার টাকা নেয় উপজেলা সাব- রেজিষ্টির অফিস। যার দলিল নং ১০৭২। একই উপজেলার দাসের জঙ্গল এলাকার মৃত বকুল কর্মকারের ছেলে অনিল কর্মকার। যার দলিল নং সি ১১১-৮। যে দলিল টি ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর ৫০ হাজার উৎকোচের দিতে দলিলটি সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও একই উপজেলার শাখওয়াত হোসেন চুন্নুসহ অসখ্য লোকের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করেছে গোসাইরহাট উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার খারুল বাশার ভুইয়া পাভেল।

দীর্ঘদিন দলিল আটকিয়ে রাখে গ্রাহকদেরকে হয়রানি করে থাকে। এ ব্যাপারে কোন দলিল লেখক কোন রকম প্রতিবাদ করলে তাকে গোসাইরহাট সাব রেজিষ্ট্রিার অফিস থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেছে দলিল লেখকরা। অনেক সময় ঐ দলিল লিখককে ১৫ দিন বা এক মাসের জন্য তার অফিসে নিষিদ্ধ করে দেয়ার হুমকিসহ লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেন সাব রেজিষ্ট্রার। ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর এ স্বেচ্ছাচারিতা ঘুষ নিয়মিত অফিস না করা ও অনিয়মের বিষয়টি মহাপরিচালক রেজিষ্টেশন বিভাগ (আই জি আর) বরাবরে লিখিত আবেদন করে গোসাইরহাট উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রিার অফিসের দলিল লিখক সমিতি। গত ২ মাসেও এর কোন প্রতিকার পায়নি দলিল লেখক ও সাধারন সেবা প্রত্যাশিরা।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা সাব-রেজিষ্টি অফিসের দলিল লেখক মানিক দত্ত বলেন, আমাদের বর্তমান সাব- রেজিষ্টার খায়রুল বাশার পাভেল গোসাইরহাট উপজেলায় যোগদানের পর থেকে ঘুষ, দুনীর্তিতে ছেয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে ও কোন প্রতিকার পায়নি। বার বার আমরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছি।
শহীদুল ইসলাম বেপারী, ২০২০ সালে ১১ জুন আমি একটি দলিল করতে আসি। তখন সাব- রেজিষ্টিরের অফিস সহকারী মাধ্যামে ৮০ হাজার টাকা দাবী করেন। তার দাবীকৃত দিতে দেরী হওয়ায় আমার দলিল আটকে রাখে। পওে টাকা পরিশোধ করা আমার দলিল করে দেয়।
অলিল কর্মকার বলেন, ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর একটি দলিল করতে আসি। তখন ৫০ হাজার উৎকোচের দিতে দলিলটি সম্পন্ন হয়েছে বলে।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক শাহ আলম শেখ বলেন, আমাদের বর্তমান সাব- রেজিষ্টার খায়রুল বাশার পাভেল যোগদানের পর থেকে ঘুষ , সারাদিন যত দলিল হয় তা ১ % নগদ টাকা না দিলে দলিল আটকে রাখে।দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করার পর রাতে তিনি এ সকল দলিলে স্বাক্ষর করে। নিয়মিত অফিস ও করেন না। আমরা এর প্রতিকার চাই।
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা সাব- রেজিষ্টার খায়রুল বাশার পাভেল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন ,আমার অফিসে কোন অভিযোগ থাকলে তারা আমাকে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানাবে। আমাকে না জানিয়ে দলিল লেখকদের অন্দোলন করে কি লাভ হবে।

সর্বশেষ নিউজ