১৭, আগস্ট, ২০২২, বুধবার

আটক ঠেকাতে সমাবেশে ‘লুকালেন’ নুর, পুলিশ হেফাজতে ১০-১২ জন

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শুক্রবার (২৬ মার্চ) দেশে বেশকয়েকজন নিহত হয়েছেন।

সেই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ। সেখানে বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

বক্তব্য শেষে চলে যাওয়ার সময় পুলিশের গ্রেফতারের মুখোমুখি হলে সমাবেশে লুকান নুর ও তার নেতাকর্মীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট সমাবেশে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। সমাবেশ শেষে ১০-১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, দুই থেকে তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই সমাবেশ শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকীসহ প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীরা।

এই সমাবেশে নেতাকর্মীদের নিয়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাজির হন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ৪ মিনিটের বক্তব্য দেন নুর। নুরের বক্তব্যের সময়ই সমাবেশ ঘিরে ফেলে পুলিশ।

বক্তব্য শেষে নূর ও তার নেতাকর্মীরা দক্ষিণ দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করলে তাদেরকে আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। তখন তারা আটক এড়াতে ফের সমাবেশে ফিরে যান। নুর ও তার নেতাকর্মীরা জুনায়েদ সাকী ও ডা. জাফরুল্লাহর পাশে অবস্থান নেন।

সমাবেশের মাইক নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী পুলিশকে বারবার আটক না করার অনুরোধ জানান। এ সময় জুনায়েদ সাকী বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে (উপস্থিত পুলিশ) অনুরোধ করছি, এই সমাবেশ থেকে কাউকে গ্রেফতার করবেন না। প্লিজ। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছি, আমরা আর কিচ্ছু করবো না।’

এরপর জুনায়েদ সাকী কথা বলা শেষ করলে একজন স্লোগান দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন ফের পুলিশ উত্তপ্ত হয়ে যায়। এরপর ভিপি নুর মাইক নিয়ে সবাইকে শান্ত হতে বলেন।

এ সময় নুর বলেন, ‘আপনারা এখানে কোনো প্রকার উস্কানি বা বিক্ষোভ করবেন না। শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রতিবাদ সম্পন্ন করতে দেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ করা উচিত হবে না। সুতরাং কোনো ধরনের উশৃঙ্খল বক্তব্য বা উত্তেজনা ছড়িয়েন না। পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।’

তখন সেখানে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘পুলিশ নিয়ে এখানে কোনো কথা হবে না। পুলিশ নিয়ে কথা বললে শুয়ায় (শুইয়ে) ফেলবো।’

এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে পুলিশ সমাবেশ ঘিরে রাখে। দুপুর ১টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। সমাবেশে সর্বশেষ বক্তব্য রাখেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনিও সমাবেশ থেকে কাউকে আটক না করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে ডা. জাফরুল্লাহসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাবেক ভিপি নুর ও তার নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের ভেতরের দিকে রওনা দেন। তখন প্রেসক্লাবের গেট খুলতে বাধা দেয় পুলিশ।
ফলে কেউ প্রেসক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। সেখান থেকে প্রায় ১০ মিনিটের অভিযানে ১০-১২ জনকে পুলিশ আটক করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এরপর রমনার ডিসি মো. সাজ্জাদুর বলেন, ‘আমরা তাদেরকে গ্রেফতার করি নাই। তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, সেই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদেরকে ধরা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা যদি আসামি না হয়, সাধারণ মানুষ হয়, তাদেরকে আমরা ছেড়ে দেব। দুই-তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হচ্ছে। সেখানে বিদেশি মেহমান আছেন। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্লখা পরিস্থিতি রক্ষায় ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের অনুরোধ করা হয়েছে, অস্থিতিশীল বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কোনো কার্যক্রম যেন তারা না নেন।

আমরা মূলত তাদেরকে সেটাই বলেছি যে, আজকের দিনে কেউ যেনো কোনোরকম উশৃঙ্খল আচরণ বা নাশকতামূলক কার্যক্রম না করেন। তাদেরকে বলা হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করবেন। শেষ করে চলে যাবেন। যেহেতু আজকে তারা এসেছে, আপনারা দেখেছেন যে, আমরা অত্যন্ত ধৈর্য ধরে তাদের প্রোগ্রাম শেষ করতে দিয়েছি। প্রোগ্রাম শেষ করে তারা চলে গেছেন।’

সর্বশেষ নিউজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে।  শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না।  তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না। তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।