১৭, আগস্ট, ২০২২, বুধবার

আলোচিত বক্তা রফিকুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি হেফাজতের

বিশেষ সংবাদদাতা:
আলোচিত বক্তা রফিকুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে পরিবার ও হেফাজতের সংবাদ সম্মেলন। – ছবি : নয়া দিগন্ত
উদীয়মান আলোচিত বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে র‌্যাব পরিচয়ে গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার প্রতিবাদ করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে হেফাজত।

বুধবার বিকেলে নেত্রকোনা জেলা হেফাজতে ইসলাম ও মাদানীর পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে নেত্রকোনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামের অন্যতম নেতা জামিয়া হুসাইনিয়া মালনী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, রফিকুল ইসলাম মাদানীর বড় ভাই রমজান মিয়া, চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম, হেফাজত নেতা মাওলানা আসাদুর রহমান, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, যুবনেতা আব্দুর রহিম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলমের বড় ভাই রমজান মিয়া জানান, রফিকুল ইসলাম মাদানী গত সোমবার ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের লেটিকান্দা গ্রামে আসেন। পরদিন মঙ্গলবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘটে এক ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য শেষে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। রাত আড়াইটার দিকে ১৯টি গাড়ি নিয়ে চারদিক থেকে তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। কালো পোশাক পরিধানরতরা নিজেদের র‌্যাব পরিচয় দিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানী, তার বড় ভাই বকুল মিয়া (৩৭) ও তার দূর সম্পর্কের ভাতিজা এনামুল হককে (২৮) তুলে নিয়ে যায়। পরে বকুল মিয়াকে রাতেই ছেড়ে দেয়া হলেও অন্য দু’জনের খোঁজ তাদের জানা নেই।

পরিবারের দাবি, রফিকুল ইসলাম মাদানীর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনসহ তাদের পরিবারের ছয়টি মুঠোফোন জব্দ করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এতে তার পরিবার, স্বজন ও গ্রামবাসীদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

সকালে রফিকুল ইসলামের আটকের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে মাদানীর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহস্পতিবার মাবনবন্ধনসহ লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম মাদানীরা পাঁচ ভাই। রফিকুল সবার ছোট। তার বাবা মৃত শাহাবুদ্দিন। রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঢাকায় চলে যান। সেখানে লেখাপড়া করার সময় ‘শিশুবক্তা’ হিসেবে আলোচিত হন।

এদিকে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদনীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ নিউজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে।  শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না।  তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না। তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।