২৫, সেপ্টেম্বর, ২০২২, রোববার

মুন্সীগঞ্জে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, উপক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাতদিনের বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনেও মুন্সীগঞ্জে প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযান। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জোর চেষ্টা দেখা যায়নি জেলাজুড়ে। হাঁট-বাজারগুলো বিক্রেতার হাঁকডাক, ক্রেতাদের দরদামে মুখোরিত। শত মানুষ জটলা বেঁধে প্রয়োজনী দ্রব্য কিনছেন। সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা, বরং ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে যেন জমজমাট চারপাশ।

এদিকে করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে মুন্সীগঞ্জের অবস্থান দ্বিতীয়।
সরেজমিনে শুক্রবার সকাল থেকে বিবাল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত জেলা বিভিন্ন উপজেলার বৃহত্তম হাট-বাজার গুলো ঘুরে দেখা যায়, শতা শত মাছ ও সবজি ব্যবসায়ী বসে আছেন পণ্য নিয়ে। মরিচের আড়ৎ, পেঁয়াজের আড়ৎ, মুদি, ফল, বিপনী বিতান, কনফেকশনারী, হার্ডওয়ার ও খাবারের দোকানসহ অন্যান্য হাজার হাজার দোকানপাট খোলা রয়েছে। প্রতিটি দোকান ঘিরে মানুষের ভিড়। কোথাও কম, কোথাও বেশি ক্রেতা। করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকারি সিদ্ধান্তে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা। কিন্তু এই বাজারে তার কোনো বালাই নেই।

একে অপরের সঙ্গে শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছিলেন ক্রেতারা। কোনো কোনো ক্রেতাকে অবশ্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশই মানছেন না করোনাভাইরাস প্রতিরোধের নির্দেশনা সমূহ । সর্বত্র মানুষের জটলা বেঁধে রয়েছে । সাধারণ মানুষ তোয়াক্কাই করতে চাচ্ছেনা করোনাকে। আর এ গাফিলতি থেকেই ঘটতে পারে বড় বিপর্যয়।
এদিকে জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ঐতিহবাহী দিঘীরপাড় বাজারে সপ্তাহে শুক্রবার ও সোমবার এই দুই দিনে হাট বসে। এই হাটে পার্শ্ববর্তী জেলা শরিয়তপুর, ফরিদপুর, চাঁদপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী কাঁচামাল ক্রয় ও বিক্রয় করতে আসেন। ফলে বাজারে সমাগম ঘটে হাজার হাজার মানুষের।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, বাজারগুলোতে গতবছরের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও পুলিশ টহলের ব্যবস্থা আরও জোরালো করা প্রয়োজন। তাহলেই বাধ্য হয়ে মানুষ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবে ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে মাছ ও সবজির বাজার শুরু হয় । তবে হাটের দিন সকাল থেকে মরিচের আড়ৎসহ বিভিন্ন আড়ৎ একে একে খোলা হয়। এছাড়া দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে কোন নির্দেশনা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দোকানপার্ট খোলা থাকে। তবে তারা বলছেন, টিভি ও পত্র-পত্রিকায় সরকার লকডাউন দিছে শুনেছি কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু দেখছি না।
পূর্বরাখি এলাকার বাসিন্দা সুমন সকালে দিঘীরপাড় বাজারে মাছ কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, সরকার সাতদিনের লকডাউন ঘোষণা করে সকল দায়-দায়িত্ব জনগনের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। এখন জনগন যদি মানে তাহলে ভালো, না মানলে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই। নামকাওয়াস্ত লকডাউনের ফলে আয়-রোজগার নিয়ে মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত মানুষ একটি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে।

প্রতি হাঁটে শরিয়তপুর থেকে মরিচ বিক্রি করতে আসেন কুদ্দুস সৈয়াল। তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি। মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মরিচ নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকি। মরিচের ঝাঁজে নাক দিয়ে সব সর্দি বেড় হয়ে যায়। আর মাস্ক পড়ে বেচাবিক্রি করা যায় না।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, মুন্সীগঞ্জে আবারো নতুন করে দ্রুত করোনায় সংক্রমন বেড়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও মানুষের মধ্যে উদাসীনতার কারণে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৯৬৪ জনে। এরমধ্যে মারা গেছেন ৬৯ জন।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনার সাথে মানুষের মধ্যে উদাসীনতাও বেড়েছে। মানুষ বেপরোয়াভাবে বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাজর-মার্কেট গুলোতে জটলা লেগেই আছে। যেখানে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা, সেখানে মাস্ক ছাড়াই বাহিরে বেড়াচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধির মেনে না চললে অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। ব্যক্তি সচেতনতা বাড়াতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো.মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারাই স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ