১৪, আগস্ট, ২০২২, রোববার

যে যেভাবে পেরেছে ঢাকা ছেড়েছে

ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সারা দেশে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপের লকডাউন শেষ হয় ১১ এপ্রিল। তবে ১২ ও ১৩ এপ্রিলও সেই লকডাউনের বিধিনিষেধ বলবৎ রাখা হয়। আর আজ ১৪ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে শুরু হলো সর্বাত্মক লকডাউন। একমাত্র পোশাকশিল্প কারখানা ও জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন ছাড়া সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার লাখ লাখ মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে।

কয় ধাপে চলবে এ লকডাউন, কবে থামবে করোনার সংক্রমণ- এ নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ফলে ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপের লকডাউন শুরুর আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। আর দ্বিতীয় ধাপে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা আসার পর গত ৪-৫ দিন ধরে ট্রাক-মিনিট্রাক ও গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে সাধারণ মানুষ গ্রামে ফিরছে।

লকডাউনে কর্ম হারিয়ে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এসব মানুষের অধিকাংশই শ্রমজীবী। তাদের মতে, সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। করোনা পরিস্থিতিও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ফলে লকডাউনের সময় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনও হতে পারে, ঈদের আগ পর্যন্ত লকডাউন চলতে পারে। সেক্ষেত্রে কাজ হারিয়ে ঢাকায় থাকলে তাদের ভাতে মরতে হবে। এছাড়া লকডাউনে ঢাকায় থেকে রোজা রাখাও তাদের পক্ষে কষ্টকর হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের দু-তিন দিনের মতো গতকালও ঘরমুখো শত শত মানুষের ভিড়। অনেকেই আসবাবপত্র ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে গ্রামে ফেরার অপেক্ষা করছেন। এদের বেশিরভাগই রিকশা কিংবা ভ্যানচালক।

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশেও মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। কারওয়ান বাজার থেকে পণ্যবাহী ফিরতি ট্রাক সেখানে পৌঁছুলে মানুষ হুমড়ি খেয়ে উঠার চেষ্টা করে। ওইদিন সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা গেছে। চারদিকেই ছিল ঘরমুখো মানুষের ঢল। দূরপাল্লার বাস না চললেও মানুষ যে যেভাবে পারছে গ্রামে ফিরছে।

সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার (১৪ এপ্রিল) সকালেও বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে টুকটাক ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। শেষ সময়ে যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের অনেকেই ব্যবসা পেশার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ, লেনদেন ও সব গুছিয়ে নিতে তাদের একটু বাড়তি সময় লেগে গেছে। এসব ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, রোজার মাসজুড়েই লকডাউন বলবৎ থাকতে পারে। তাই তারা আঁটঘাট বেঁধেই ঢাকা ছাড়ছেন।

অনেকেই আবার কোনও উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কয়েকজন মিলে একটা প্রাইভেটকার ভাড়া করে গ্রামে ফিরেছে। আবার এমন অনেকে আছেন যারা কয়েকদিন চেষ্টা করেও গণপরিবহন না থাকায় বাড়ি ফিরতে পারেনি। তারা বাধ্য হয়েই ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে সুযোগ বুঝে তারাও ঢাকা ছাড়তে ওঁও পেতে আছে।

এদিকে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ঈদের আমেজে মানুষের এই ঢাকা ছাড়ার দৃশ্যে কোথাও কোনও স্বাস্থ্যবিধির বালাই চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে প্রশাসনের বিশেষ কোনও নজরদারিও লক্ষ্য করা যায়নি।

সর্বশেষ নিউজ