১৭, আগস্ট, ২০২২, বুধবার

মসজিদের মাইকে সংঘর্ষের ঘোষণা, ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

নেত্রকোনার মদনে দুই পক্ষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ মাস ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। আজ শনিবার সকালেও ছয়টি গ্রামের মসজিদের মাইকে সংঘর্ষের ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একত্র হয় হাজারো লোকজন। বৃষ্টি থাকায় অস্ত্রে সজ্জিত লোকজন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

জানা যায়, নায়েকপুর ইউনিয়নের বাউসা গ্রামের মানিক মিয়া জনতা বাজারের দুই শতাংশ ভূমি একই ইউনিয়নের মাখনা গ্রামের ফৌজদার মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। ফৌজদার মিয়া ক্রয়কৃত জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ করায় মানিক মিয়ার টিনসেড, ফৌজদার মিয়া ও শান্তু মিয়ার নব-নির্মিত আধা পাকা দোকান ঘর ভেঙে ফেলে বাজার কমিটি ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় মাখনা গ্রামের ফৌজদার মিয়ার ছেলে সোহেল খান বাদী হয়ে ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুল হকসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করেন তিনি।

এরই জেরে নোয়াগাও, বাউসা, তালুককানাই, আলমশ্রী ও সোনাখালী (৫ গ্রাম এক দল) হয়ে মাখনা গ্রামের সাথে ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সিংহের বাজারের পাশে গৌরার হাওরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই দিন পুলিশ ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। পাঁচ মাস ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে অতিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, সংঘর্ষের পর থেকে নোয়াগাঁও, বাউসা, তালুককানাই আলমশ্রী, সোনাখালী (৫ গ্রামের) লোকজনদের সঙ্গে মাখনা গ্রামের লোকজনের কোনো যোগাযোগ নেই। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। পাঁচ মাস ধরে জনতা বাজারে মাখনা গ্রামের কোনো লোকজন যাতায়াত না করায় মাখনা গ্রামের কয়েকটি দোকান এখন পর্যন্ত বন্ধ। কোনো অনুষ্ঠান বা কেউ মারা গেলে যাতায়াত করলেই গুনতে হবে জরিমানা এমনটাই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সমাজপতিদের। জরিমানার ভয়ে অনেকেই আত্মীয়তার সর্ম্পক নষ্ট করছেন।

নায়েকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রোমান বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও মাতুব্বরদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এতে কোনো কাজ হচ্ছে না। আজ শনিবার আবারো ছয় গ্রামের হাজারো লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে নায়েকপুর ইউনিয়নে ছয় গ্রামের লোকজনের উত্তেজনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি দফায় দফায় দুপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি। আধিপত্য বিস্তারের জন্য উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের ঘোষণা দেয়। আজ শনিবার উত্তেজনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ রয়েছে।’

সর্বশেষ নিউজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে।  শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না।  তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না। তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।