১৭, আগস্ট, ২০২২, বুধবার

কমিটি করে কি গ্রেপ্তার এড়াতে পারবেন বাবুনগরী?

তার বিরু’দ্ধে ৬টি মামলা। ৩টির বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যেই জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা করলেন। বিভিন্ন মহল মনে করছেন, মামলা এবং তদন্ত থেকে বাঁচার জন্যই নতুন কমিটি গঠন করেছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। প্রশ্ন উঠেছে, এই কমিটি করে কি তিনি শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারবেন?

জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরু’দ্ধে ৩টি মামলা ২০১৩ সালের। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঢাকা চলো অভিযানের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তা’ণ্ডব চালিয়েছিল, লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছিল। এ নিয়ে যে একাধিক মামলা আছে সেই মামলাগুলোতে আসামির জুনায়েদ বাবুনগরী। বাবুনগরীর নির্দেশেই এই এইসব ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।

ওই ২০১৩ সালের ৫ মে-তেই বাবুনগরীর বিরু’দ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছিল। সেটি হলো রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। ৫ মে তে শাপলা চত্বরে জমায়েত হয়ে বাবুনগরী ঘোষণা করেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো হবে। ইসলামী সরকার গঠন করা হবে এবং ইসলামী সরকারে নিজেকে তিনি সঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করেছিলেন। আর এই বাস্তবতায় তার বিরু’দ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হয়েছিল।

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের আন্দোলন যখন সরকার সফলভাবে মোকাবেলা করে তারপর জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং গ্রেপ্তার হবার পর আহমদ শফীর তদবিরে তিনি মুক্ত হন এবং সেই বাকিটা সময় তিনি আহমদ শফীর ছায়ায় ছিলেন। ২০১৩ সালের ৫ মে-র পর আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতের সঙ্গে সরকারের এক ধরনের সখ্যতা তৈরি হয় এবং সে কারণেই বাবুনগরীর বিরু’দ্ধে যে মামলাগুলো ছিল সে মামলাগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।

আহমদ শফীর মৃ’ত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির পদ একপ্রকার কব্জা করে নেন। আমির হয়ে তিনি নতুন করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। বিশেষ করে হেফাজতের কমিটিতে যারা আওয়ামী লীগবিরোধী, বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসেন। নতুন কমিটি হওয়ার পরই সরকারের ওপর নানারকম চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এই চাপ সৃষ্টি করতে গিয়েই গত ২৬ এবং ২৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজত ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতা চালায়। এরপর সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। যার প্রেক্ষিতে আরো কিছু মামলা হয় যারা এইসব নাশকতার সঙ্গে জড়িত।

এই মামলার মধ্যে হাটহাজারীতে সন্ত্রা’সী ঘটনায় দুটি মামলার আসামি জুনায়েদ বাবুনগরী। আবার আহমদ শফীকে হ’ত্যা করা হয়েছে বলে অনুসারীরা অভিযোগ করেছিল। যার প্রেক্ষিতে মামলা হয়। পিবিআই তদন্তে প্রাথমিকভাবে সেই অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে। সেই মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। এই মামলার অন্যতম আসামি হলেন জুনায়েদ বাবুনগরী ও মামুনুল হক।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের বিরোধিতা এবং নাশকতার প্রেক্ষিতে সরকারী সংস্থাগুলো তদন্তে নেমেছে। একইসাথে হেফাজত নেতাদের বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যাওয়া এবং উৎস গোপন করা অর্থের তত্ত্ব-তালাশ করতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন পেয়েছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস মিলেছে।

এর আগেও ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের সমাবেশের আগে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা, হাবিবুন নবী সোহেল এবং জামায়াতের তৎকালীন আমির ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে বাবুনগরীর হাতে কয়েক কোটি টাকা তুলে দেয় নাশকতা সৃষ্টির জন্য। সেই টাকা হেফাজতের ফান্ডে জমা হওয়ার কথা থাকলেও তার কোনো হদিস বা খরচের হিসাব মেলেনি পরবর্তীতে।

এ নিয়ে চট্টগ্রামের প্রবীণ হেফাজত নেতা ও সংগঠনের অডিটর মাওলানা সলিমউল্লাহ জানান, বারবার তাগাদা দিলেও ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত সেসব টাকার কোনো হিসাব দাখিল করেননি বাবুনগরী। এমনকি ডোনেশনের টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যক্তিগত খাতে খরচের একটা খতিয়ান চাওয়া হলেও কোনো জবাব দেননি জুনায়েদ বাবুনগরী।

মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং হেফাজতের নেতাকর্মীদের চিকিৎসার নামে দেশ বিদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা অনুদান আসে। এসব অর্থ মাদ্রাসার অ্যাকাউন্টে না রেখে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রাখেন বাবুনগরী। কিন্তু সেসব অর্থ ব্যয়ের কোনো হিসাব নাই তার কাছে। দেদারসে খরচ করেন নিজেদের বিলাসিতার কাজে। দেশবিরোধী নাশকতার কাজেও খরচ করা হয়।

এত অভিযোগ মাথায় নিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী কমিটি করলেন একটি আশায়, এতে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক তৈরি হবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, জুনায়েদ বাবুনগরী যদি কমিটি করে সরকারকে বুঝ দিয়ে পার পেয়ে যান, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের বিচার করা কি কঠিন হয়ে যাবে না?

সর্বশেষ নিউজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে।  শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না।  তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে, আমাদের ওপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেয়, তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনি রাশেদ। এই রাশেদ ছিল মিন্টু রোডে যে অপারেশন হয় সেই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার। আমেরিকার সঙ্গে আমরা বারবার কথা বলছি, কিন্তু তারা তাকে (রাশেদ) দিচ্ছে না। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়। তারা আমাদেরকে মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী, শিশু- তাদেরকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে চারিদিকে অনেক প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করে। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমি আমার বাবা-মা হারিয়েছি, কিন্তু আমি মামলা করতে পারব না। তিনি বলেন, ৩২ নম্বর, ওই ধানমণ্ডির। লাশগুলো তো পড়েছিল। কত স্লোগান, তুমি আছ যেখানে, আমরা সেখানে। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারিনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক- কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট সেই লাশ পড়েছিল। বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।