৬, ডিসেম্বর, ২০২২, মঙ্গলবার

অশালীন বক্তব্যের জন্য সমালোচিত রাজনীতিবিদরা

সাম্প্রতিক সময় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বক্তব্য নিয়ে রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। কিন্তু রাজনীতিতে এমন বক্তব্যে ডা. মুরাদ অনন্য নন। মূলত ৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরিত্রহনন, অশ্লীলতা এবং কুৎসিত বাক্যবাণে প্রতিপক্ষকে জর্জরিত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

সেই ধারা থেকে এখনো বেরিয়ে আসেনি বাংলাদেশ। এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন হলো ডা. মুরাদ হাসান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি অশালীন, কুৎসিত, অরুচিকর বক্তব্যের জন্য আলোচিত হয়েছেন। এমন কয়েকজন-

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন: শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন আশির দশকে। স্বৈরাচার পতনের কিছুদিন পরই তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি নেতা হিসেবেই এখন রাজনীতিতে কোনোমতে টিকে আছেন। তিনি আশির দশকে কুৎসিত নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত বক্তব্যের জন্য সমালোচিত। বিশেষতঃ ‘দুই নেত্রী মিলিত হলে কিছুই উৎপাদিত হয় না’- তার এমন জঘন্য বক্তব্যের কথা আজও ভোলেননি কেউ।

আনোয়ার জাহিদ: আনোয়ার জাহিদকে অনেকে ঝাড়ুদার জাহিদও বলতেন। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় এরশাদকে খুশি করার জন্য তিনি কুৎসিত, অরুচিকর এবং ভাঁড়ামিপূর্ণ কথাবার্তা বলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন।

জয়নুল আবদিন ফারুক: বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন ফারুক অশালীন বক্তব্যের জন্য ব্যাপক ধিকৃত। একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়েছিল বছরখানেক আগে। যেখানে ফারুক নিউইয়র্ক প্রবাসী এক বিএনপি কর্মীর স্ত্রী সঙ্গে অশালীন, অশোভন এবং যৌনালাপ করেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈ হলেও তার বিরুদ্ধে দল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মোজ্জেম হোসেন আলাল: সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের একটি বক্তৃতার ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। একজন রাজনীতিবিদ কীভাবে এত জঘন্য ও নোংরা বক্তব্য রাখতে পারেন, আর তা শুনে একদল লোক হাহা হিহি করতে পার, এ নিয়ে মানুষ হতবাক হয়ে যাচ্ছে। আলাল প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে নোংরা উক্তি করেছেন তার বিচারের দাবি করছে আওয়ামী লীগ।

আসিফা আশরাফী পাপিয়া: আসিফা আশরাফী পাপিয়া একসময় বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয় সংসদের রাজনীতি বিবর্জিত, শিষ্টাচার বিবর্জিত ভাষায় কথাবার্তা বলে সমালোচিত হয়েছিলেন।

রেহানা আক্তার রানু: রেহানা আক্তার রানু ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদের নারী কোটায় বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। সংসদে তার একমাত্র কাজ ছিলো কুৎসিত শব্দ চয়নের মাধ্যমে সংসদের পরিবেশকে নষ্ট করা। এই কাজের জন্যই হয়তো তিনি নিয়োজিত হয়েছিলেন।

শাম্মী আক্তার: শাম্মী আক্তার বিএনপির আরেকজন নারী সংসদ সদস্য যিনি ২০০৯ সালের সংসদে যোগ দিয়েছিলেন। তিনিও অরুচিকর, কুৎসিত বক্তব্যের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন।

এছাড়াও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি আছেন যারা শিষ্টাচারবহির্ভূত কথাবার্তা বলার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন।

সর্বশেষ নিউজ