৬, ডিসেম্বর, ২০২২, মঙ্গলবার

পাবিপ্রবি শিক্ষকের নানা অভিযোগ

,পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম ও শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিজের ভাতিজিকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এ উপাচার্যের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবের ভিআইপি অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ দাবি করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রভাষক পদের নিয়োগ কার্যক্রমে আমাকে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে গেলে কোনোপ্রকার লিখিত কারণ ছাড়াই আমাকে এ নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। পরে উপাচার্যের অফিসে নিয়োগ বোর্ডের সভায় আমি প্রবেশ করতে গেলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। ভিসির নির্দেশেই দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমাকে লাঞ্ছিত করেন এবং সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইতোপূর্বে উপাচার্য নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি থেকে তার আপন ভাতিজিকে প্রথম শ্রেণির সেকশন কর্মকর্তার পদে নিয়োগ দেন। এই নিয়োগে আমার স্ত্রী আবেদন করায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা থেকে বিরত থেকেছি। কিন্তু আইনি বাধা না থাকায় নিয়োগ বোর্ডের মৌখিক পরীক্ষার সময় বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আবেদন করেছিলাম। এ ছাড়াও এর আগের অনেক নিয়োগে নিকট আত্মীয় থাকার পরও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি বা সদস্য হিসেবে থাকার নজির রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।’

‘এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির ত্রুটি ছিল। যার ফলে কয়েকজন মেধাবী প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ জন্য আমি ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তারা আমার অভিযোগ আমলে না নিয়ে এই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত প্রায় নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার কয়েকদিন পর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু আজ সকালে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মৌখিক পরীক্ষার নেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়। অনৈতিকভাবে এই নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পুনরায় এই নিয়োগ আহ্বানের দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন কর্মকর্তা পদে উপাচার্যের আপন ভাতিজিকে ‘অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকালে সেকশন কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চার পদের বিপরীতে সহস্রাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭২ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। লিখিত পরীক্ষায় শতভাগ ফল নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। মৌখিক পরীক্ষাতেও সবার চেয়ে ভালো ফল অর্জন করেও নিয়োগ বঞ্চিত হই। কিন্তু এই মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও ভিসির আপন ভাতিজি কানিজ ফাতেমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ছিলেন ভিসি নিজেই।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য এম রোস্তম আলী দাবি করেন, ‘কানিজ ফাতেমার নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষার সময়ে আমি ঢাকায় ছিলাম। তাই এ নিয়োগে কোনও অস্বচ্ছতার বিষয় সঠিক নয়।’

গণিত বিভাগের চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হলেও তার স্ত্রী চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় তাকে বিধি মোতাবেক রাখা সম্ভব হয়নি। যে কারণে অফিস স্টাফরা তাকে নিয়োগ বোর্ডে ঢুকতে না দিয়ে চলে যেতে বলেছেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘অস্বচ্ছ, অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন করে অনৈতিকপন্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোন কাজ করা হয়নি। যে বা যারাই অভিযোগ করেছেন, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারেননি বা আমাকে ভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ায় একের পর এক উল্টাপাল্টা ও মিথ্যা মনগড়া অভিযোগ তুলে পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছেন।’

সর্বশেষ নিউজ