৮, ডিসেম্বর, ২০২২, বৃহস্পতিবার

নড়িয়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ

নাছির আহম্মেদ আলী,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের ১৪ নং নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপননের বিরোদ্ধে স্কুলের টাকা আত্নসাৎ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরনসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে ৬জন সহকারী শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা নড়িয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবওে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। । প্রধান শিক্ষক আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার কওে বলেন , আমি স্থানীয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেও স্বীকার । উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন , তদন্ত কওে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অচিরেই বিষয়টি আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কে লিখিত ভাবে জানাবো।

নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাতাশা ইসলাম রিনথী ,মোকশেদা বেগম জানান, নড়িয়া উপজেলার ১৪নং নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপনগত ২৯ ডিসেম্বও ২০১১ সালে যোগদান করেন । তিনি যোগদান করার পর থেকে গত ১০ বছররে স্কুলের ক্ষুদ্র মেরামত, উন্নয়ন, শ্লিপের টাকা আত্নসাৎ, উপবৃত্তির টাকা আত্নসাৎ, বিদ্যালয়ের সীমানা থেকে ২টি মূল্যমান কড়াই গাছ ৮২ হাজার টাকা বিক্রি করে আত্নসাৎ করেছে। টাকা, পুরাতন ভবন বিক্রির টাকা বিক্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে কতৃপক্ষের বিনানুমতিতে অত্রবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাশ চালু করেছে। এ বিদ্যালয়ের প্রাইমারীর সহকারী শিক্ষকগন ৬ষ্ট থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণী পাঠদান করতে বাধ্য করেন। কোন শিক্ষক ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ক ক্লাশ করতে না চাইলে তাদেরকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেন না। শিক্ষকদেরকে অফিস কক্ষে বসতে দেয় না। তাই বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা ক্লাশ রমে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হয়। প্রতি বছর উন্নয়ন খাতের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষকদেরকে লাঞ্চিচ করে। বিদ্যালয়ের টাকায় কোন কিছু কেনা কাটা করলে ২/১ দিন পওে প্রধান শিক্ষক তা তার নিজের বাসায় নিয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,এ বিদ্যালয়ে শিশুদের কক্ষে কোন শিক্ষা বা খেলার উপকরন নেই। প্রতি বছর শিশু শ্রেনীর জন্য সরকারী বাজেট থাকলেও কোন কেনা কাটা হয় না। শিশু শ্রেনীর জন্য নিয়োজিত শিক্ষক কেও সেখানে ক্লাশ নিতে দেন না প্রধান শিক্ষক।
প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল নিতে শিক্ষার্থীদেও কাছ থেকে ৫০ টাকা কওে আদায় করা হয় বলে সহকারী শিক্ষক না মোকসেদা বেগম জানান।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে সহকারী শিক্ষক মোকসেদা বেগম, মাহমুদা হাসিয়া, আয়শা আকতার, স্বর্ণালী, তানজিয়া আকতার, নাতাশা আকতার রিনথী, য়ৌথ স্বাক্ষর দিয়ে নড়িয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অপরদিকে অভিভাবকগন গনস্বাক্ষর দিয়ে জেলা প্রাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিকট প্রধান শিক্ষকের অপসারন চেয়ে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়িয়া উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইকবাল মনসুর ও দ’ুজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে গত ২৪ আগষ্ট সরেজমিন তদন্ত করেন। এ সময় স্থানীয় শতাধিক অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষকগন অভিযোগের বিষয় প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে কতৃপক্ষের নিকট তুলে ধরেন। তারা সবাই প্রধান শিক্ষককে নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় থেকে অনতি বিলম্বে অপসারন দাবী করেন।

এ ব্যাপারে নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, নাতাশা ইসলাম রিনথী বলেন , ৬ষ্ট থেকে ৮ম শ্রেনী পযন্ত ক্লাশ না করায় আমাকে শিশু শ্রেনীতে ক্লাশ দিতে দিচ্ছে না প্রধান শিক্ষক । অথচ আমকে সরকার নিয়োগ দিয়েছেন প্রাক প্রাথমিক শিশুদেও ক্লাশ নেওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, আয়শা আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন দীর্ঘদিন যাবত এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কালে নানা রকম অনিয়ম, দুর্র্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। আমরা নিরবে সহ্য করে আসছি। সে কতৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ৮ম শ্রেনীী পর্যন্ত ক্লাস চালু করেছে। সেখানে আমাদেরকে বিনা পয়সায় শ্রম দিতে বলে। আমরা রাজি না হওয়ায় আমাদেরকে অফিস কক্ষে ঢুকতে দেয় না।

এ ব্যাপারে নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, মাহমুদা হাসিয়া বলেন,বিদ্যালয়ের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকা খরচ না করে নিজে আত্নসাৎ করে। পুরাতন ভবন বিক্রি করে সমস্ত টাকা আত্নসাৎ করেছে। বিদ্যালয় থেকে ২টি কড়াই গাছ বিক্রি করে টাকা আত্নসাৎ করেছে
এ ব্যাপারে অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মাঝি বলেন, প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন একজন দুর্নীতি পরায়ন লোক। শিশুদের উপর নিযাতন করে। বিদ্যালয়ের বরাদদ্দের টাকা পয়সা আত্নসাৎ করেছে। গাছ বিক্রি করেছে। তার আচার আরন খারাপ। আমরা তার অপরসারন চাই।

অভিভাবক তোতা ছৈয়াল বলেন, প্রধান শিক্ষক একজন বেয়াদব ও দুর্নীতিবাজ লোক। তার আচরন খারাপ। সে শিশুদেরকে মারপিট করে। শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরন করে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমাদেও বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র কওে শিক্ষকদেও সাথে আমার ভুল বোজাবুঝি হয়েছিল। বিভিন্ন উন্য়ন বরাদ্ধে আমি আরো স্থানীয় সমাজ কর্মীদেও সহায়তা নিয়ে অতিরিক্ত টাকার কাজ কওে থাকি । স্কুল চালাইতে গিয়ে কিছুটা ভুল ত্রুটি হতে পারে। আমি স্থানীয় রাজনিতীর স্বীকার হয়েছি।
নড়িয়া উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইকবাল মনসুর বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। সেখানে অভিভাবক, সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। আমি বিষয়গুলোর সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রতিবেদন আকারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রিপোর্ট দাখিল করবো।

সর্বশেষ নিউজ