৮, ডিসেম্বর, ২০২২, বৃহস্পতিবার

সেতুর আশায় ৫০ বছর, নির্বাচন এলে আশ্বাস পায় কিন্তু সেতু পায় না মানুষ

ঢাকার ধামরাইয়ে ৫০ বছর ধরে ধলেশ্বরী নদীর ওপরে একটি সেতুর অপেক্ষায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ধামরাই, সাভার ও মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার ১৩টি গ্রামের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। এলাকাবাসী মনের দুঃখে বলেন নির্বাচন এলে মানুষ আশ্বাস পায় কিন্তু সেতু পায় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধামরাই উপজেলার রোয়াইল, কুল্লা ও পার্শ্ববর্তী সাভার উপজেলার কিছু অংশ এবং সিংগাইর উপজেলার ধল্লা এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। সেতু না থাকায় তারা পিছিয়ে আছে। কর্মস্থলে পৌঁছাতে যদি ৩০ মিনিট সময় লাগে তাহলে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয়। ছাত্রছাত্রীদের স্কুল যাতায়াত ও লোকজনের চলাচলে কষ্ট হয়। এলাকায় উৎপাদিত পণ্য পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষক। একটি সেতুর অভাবই এখানে জীবনযাত্রাকে শত বছরের জন্য পিছিয়ে রেখেছে। নদীতে পানি থাকলে অবস্থা বেগতিক। যখন পানি না থাকে তখন নদীর বুকে মাটি দিয়ে কিছুটা অংশ ভরাট করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।

এলাকাবাসী পঞ্চাশ বছর ধরে একটি সেতুর দাবি করে আসছে কিন্তু তাদের দাবি নজরে আসছে না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ফোর্ডনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রতিটি রাস্তাই কাঁচা। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। সেতু না থাকায় পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সবজি জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়। সাধারণ কৃষকদের শস্য গুদামজাত করার কোন ব্যবস্থা নেই। ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ জনগণের।

কুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রামটি সাভারের খুব কাছে থাকা সত্ত্বেও এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সকলেই শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন কিন্তু সেটা কেউ বাস্তবায়ন করে দেখায়নি। এলাকাবাসীকে বরাবরের মতো নৌকা দিয়েই পারাপার হতে হয়। কুল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাবু কালিপদ সরকার ফোর্ডনগর দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও এলাকাবাসীকে আশ্বাসের উপরই রেখেছেন। কবে হবে তা কেউ জানে না। আশা নিয়েই এখনো পথ চলছে জনগণ।

ফোর্ডনগর এলাকার সোহেল রানা বলেন, আমাদের ফোর্ডনগর গ্রামটি বংশী ও ধলেশ্বরী নদীর পাড় ঘেসা। তিন দিক থেকে নদী পরিবেষ্টিত, মাঝখানে এই গ্রাম। রাস্তা ও সেতুর অভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মানে তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি। অর্ধেক রাস্তা বাঁশের সাঁকো ও বাকি অর্ধেক খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় আমাদের। এলাকার কৃষক উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় কাঁচাবাজারে পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। শুধু ধলেশ্বরী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের স্কুল-কলেজে যাওয়া আসায় খুবই কষ্ট হয়। অনেক সময় দেখা যায় নদীর পারে নৌকায় উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আবার নদীতে সেতু না থাকায় অনেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে ক্ষেত-খামারে কাজ করতে হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি ধলেশ্বরী নদীতে একটি সেতু নির্মান করা হোক।

এ ব্যাপারে কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, সেতুটির ব্যাপারে এলাকার জনগণ আমাকে অবহিত করেছে। আমি নিজেও এই সেতুর ব্যাপারে মাননীয় এমপির সাথে কথা বলেছি। অতি দ্রুত সেতুটি করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আজিজুল হক বলেন, ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে তালিকায় প্রথম স্থানে রাখা হবে। যাতে তাড়াতাড়িই সেতুটি নির্মাণ করা হয়, সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ নিউজ