১৬, জুলাই, ২০২৪, মঙ্গলবার
     

শুধু টাকাই চেনেন ভূমি কর্মকর্তা আনিছুর, অতিষ্ঠ মানুষ

তালা সদর ইউনিয়ন উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। জমির কাগজপত্রের নানা অজুহাত দেখিয়ে টাকা আদায় করা করছেন তিনি। কেউ প্রতিবাদ করলে ঐদত্যপূর্ণ ব্যবহার করেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

মুড়াকলিয়া গ্রামের জনৈক ফুলমিয়া জনান, খাজনা দিতে গেলে তার খাজনা দাখিলা ৫ শত টাকা। কিন্তু নায়েব দাবি করেন দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। দাখিলায় ৫ হাজার টাকা তুলে দেন বলা মাত্রই খারাপ ব্যবহার শুরু করেন তিনি। বলেন তোকে কি বাড়ি থেকে ডেকে এনেছি ভাগ এখান থেকে। বলে আমি তাড়িয়ে দেয়। পরে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

মাঝিয়াড়া গ্রামের জনৈক ফারুক খান জানান, তাঁর প্রতিবেশী এক দাদার ২ হাজার টাকার দাখিলায় ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। না দিলে হিন্দু মানুষ জমি সব এনিমি হয়ে যাচ্ছিল টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে গেছে। কথায় কথায় বলেন, আমি কিন্তু জম্মদাতা পিতাকে ছাড় দেয়নি তার নামে কোর্টে মামলা করে জিতেছি কিন্তু। আমি কারো কর দিয়ে চলবো না। এভাবে অফিস কক্ষে দম্ভোক্তি করে চলেন নায়েব আনিছুর রহমান। বলেন, আমি কারও ভয় পায় না ?

জাতপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার জমির খাজনা চেক কাটতে গেলে তার কাছে ২৮ হাজার টাকা খাজনা দাবি করেন নায়েব আনিছুর রহমান। একইভাবে প্রতিদিন প্রয়োজনের তাগিদে যত মানুষ যাচ্ছেন এই কার্যালয়ে প্রত্যেকেই এভাবে তার ঘুষ বানিজ্যের শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারফত চেক কাঁটতে গেলে মিউটেশন ছাড়া দাখিলা কাঁটা যাবে না। তার চাহিদা মত টাকা না দিলে দাখিলা প্রদান করা হবে না। জমি রেজেষ্ট্রী করতে দাখিলার দরকার হয় তখন চেপে ধরে মাত্রারিক্ত টাকা আদায় করা হয়, টাকা আদায়ের জন্য অফিসে কয়েকজন বহিরাগত দালালও রেখেছেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে তালা সদর ইউনিয়ন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, আমি এসব বিষয়ে আপনাদের সাথে কথা বলতে চাচ্ছি না। বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও বহিরাগত লোক দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীদের সেটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ করছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-বিডি২৪লাইভ

               

সর্বশেষ নিউজ