১৫, জুলাই, ২০২৪, সোমবার
     

সিরাজদিখানে ট্রলার ডুবিতে ৭ জনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৩ শিশু

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)প্রতিনিধি :
মুন্সীগঞ্জের ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৭ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে । নিখোজ রয়েছে আরও ৩ শিশু । শনিবার সকাল নিজ বাড়ী সিরাজদিখানের খিদিরপুর গ্রাম থেকে একই বংশের নারী-পুরুষ শিশুসহ ৪৬ জন পদ্মা নদীতে পিকনিক শেষে বাড়ী ফিরছিলেন সবাই । সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় জেলার লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ডহরী-তালতলা খালের রসকাঠি এলাকায় বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। পিকনিকের আনন্দে মুহূর্তে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। ঘটনাস্থল থেকে ৪ শিশু ও ৩ নারীসহ ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে । এখনো নিখোজ রয়েছে ৩ শিশু ।
নিহতরা হলেন,মো.জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এপি আক্তার (২৮) তাদের দুই ছেলে ১০ বছর বয়সী খিদিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র সাকিবুল হোসেন,ছোট ছেলে সাজিবুল হোসেন (৪)।
নিহত এপির বড় বোন পপি আক্তার(৩০),শাহাদাৎ হোসেনের ৪ মাস বয়সী মেয়ে রুজা মনি,কুয়েত প্রবাসী ফিরোজ হোসেনের ৯ বছরের ছেলে ফারিয়ান হোসেন ও দুবাই প্রবাসী শাজাহানের স্ত্রী মোরসেদা বেগম । এখনো নিখোজ রয়েছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী আরিফ হোসেনের ২ সন্তান তোরন হোসেন (৭) ছোট মেয়ে নোভা আক্তার (৪) ও শেখ মো রুবেলের ৪ বছরের ছেলে মাহির শেখ ।
নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা। তাদের অপেক্ষায় নদীতীরে বসে আছেন স্বজনরা ।
দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা ট্রলার যাত্রী পলিন মিয়া জানান, আমি ট্রলারের সামনে বসা ছিলাম মনে হলো বড় কোন জাহাজের মত ধানব আমাদের উপড় দিয়ে উঠিয়ে দিচ্ছে। সাথে সাথেই আমি নদীতে পড়ে যাই ।
আজ সকাল সরজমিনে খিদিরপুর এলাকায় গেলে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ী হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস। পুরো গ্রামে যেন নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া ।
সকাল ৯ টায় সাকিবুল হোসেন , সাজিবুল হোসেন, রুজা মনি ও মোরসেদাকে খিদিরপুর জামে মসজিদেও মাঠে জানাজা শেষে খিদিরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় । ফারিয়ান হোসেনের বাবা প্রবাসী ফিরোজ হোসেন দেশে আসার পর লাশ দাফন করা হবে । এপি ও তার বোন পপি আক্তারের লাশ ময়নাতন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ মর্গে রাখা হয়েছে ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে লৌহজং উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবদুল মতিন জানান, লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের ৪৬ জন ট্রলারে করে পদ্মা নদীতে পিকনিকে গিয়েছিলেন। পিকনিক শেষে রাতে লতাব্দীর দিকে ফিরছিলেন তারা। সাড়ে ৭ টার দিকে ট্রলারটি লৌহজংয়ের রসকাঠি এলাকায় পৌঁছালে একটি বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে উঠলেও ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয় । এখানো নিখোঁজ রয়েছে ৩ শিশু । তবে রাতের অন্ধকার আর নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে এবং নিখোজ ৩ শিশু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান লৌহজং উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবদুল মতিন ।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শরিফুল ইসলাম তানভীর জানান,ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক । আমরা নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি এবং আজ বাদযোহর সিরাজদিখান মডেল মসজিদে নিহতেদের স্মরনে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছি ।

               

সর্বশেষ নিউজ