২৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, সোমবার

হঠাৎ করেই ঝ’ড়ের মুখে আওয়ামী লীগ

টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ, রাজনৈতিক কোন ‘চাপ নেই, নেই প্রতিপক্ষের হু’মকি-ধামকি। এই পরিস্থিতির মধ্যেও আওয়ামী লীগ এক অন্যরকম ঝ’ড়ের মুখে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতি যত খারা’প হচ্ছে, তত যেন আওয়ামী লীগ

আ’ক্রান্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এই করো’নাকালে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন, মা’রাও গেছেন অনেকে। আর এই পরি’স্থিতিতে হঠাৎ করে এক ঝ’ড়ের সামনে পড়েছে আওয়ামী লীগ। যেই ঝ’ড় অজা’না, যে ঝড় মোকাবেলার কৌশল এখনো

আওয়ামী লীগ জানেনা। আওয়ামী লীগের জন্য করোনা ছিল একটি কঠিন চ্যা’লেঞ্জ এবং কঠিন চ্যা’লেঞ্জ মোকাবেলার জন্য শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ল’ড়া’ইটা ভালোই করছিলেন। জীবন এবং জী’বিকা’কে পাশাপাশি রেখে মানুষ যেন অর্থনৈতিক সঙ্ক’টের মধ্যে না পড়ে সেটাকে দেখাই ছিল তাঁর কৌশলের প্রধান দিক। এরকম পরিস্থিতির মুখে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ এক অন্যরকম সঙ্ক’টের মধ্যে পড়েছে। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা

আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর স্ত্রী শাহানারা আবদুল্লাহ মা’রা গেছেন। মৃ’ত্যুব’রণ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল রাতে মা’রা গেলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ। এখনো করো’নায় অসু’স্থ হয়ে আছেন মুক্তিযু’দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, সিলেটের সাবেক মেয়রসহ আরো অনেকে। আওয়ামী লীগের যারা বর্ষীয়ান নেতা রয়েছেন তাঁরা আ’তঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে আছেন। অজানা আ’ত’ঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হৃ’দরো’গী, করো’না সং’ক্রম’ণ শুরুর পর থেকে তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সঙ্গত কারণেই।

আর ঘরে থেকেই তিনি যেটুকু পারছেন করছেন, তাঁকে নিয়েও নেতাকর্মীদের ভ’য়। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু- উভয়েই বর্ষীয়ান। কদিন আগেই তোফায়েল আহমেদ স্ট্রো’ক থেকে সু’স্থ হয়ে বাসায় এসেছেন। এখনো তিনি ঘরে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের তদারকি করছেন। আমির হোসেন আমুকে নিয়েও শ’ঙ্কা রয়েছে। এই সমস্ত বয়:প্রবীণরা যদি করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হন তাহলে তাঁদের স্বাস্থ্য চরম ‘ঝুঁকিতে পড়বে, এটা তাঁরা যেমন বোঝেন, তেমনি বোঝেন জনগণ। আওয়ামী লীগের এমন অনেক নেতাই অসু’স্থ হয়ে পড়ছেন এবং করো’নায় আ’ক্রান্ত

হচ্ছেন। করোনার শুরু থেকেই সরকার রাজনৈতিক উদ্যোগের বদলে আমলাতা’ন্ত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু রাজনীতিবিদরা কি ঘরে বসে থাকতে পারেন? রাজনীতিবিদরা স্ব-উদ্যোগেই এলাকায় গেছেন, জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যে যেভাবে পেরেছেন ত্রাণ সহায়তা করেছেন, অন্যান্য সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। এর ফলে আওয়ামী লীগে আক্রা’ন্তের সংখ্যা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের থেকে অনেক বেশি। এই আ’ক্রান্ত সংখ্যা দ্বারা একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, ক’রোনা সঙ্ক’টের সময় আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা জনগণের পাশে ছিল এবং জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের পর থেকেই নানারকম নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার এবং স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের দেহে নানা রোগশোক বাসা বেঁধেছে। ৭৫ এর পর তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন কা’রাবরণ করেছেন, মতিয়া চৌধুরী দীর্ঘদিন কা’রা’বরণ করেছেন, বেগম সায়েদা চৌধুরী নি’র্যাত’ন ভো’গ করেছিলেন, আমির হোসেন আমুও সামরিক স্বৈ’রাচা’রের নি’পীড়’নের শি’কা’র হয়েছিলেন, যেমন শি’কা’র হয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। এখন করোনায় যদি তাঁরা আ’ক্রা’ন্ত হন, তাহলে সেটা হবে তাঁদের জন্য ভ’য়ঙ্ক’র। আবার ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষ’ম’তায় আসার পর আওয়ামী লীগের মধ্যস্তরের নেতা’কর্মী’রাও নি’পী’ড়ি’ত হয়েছেন,

নি’র্যা’তি’ত হয়েছেন, শা’রীরি’ক’ভাবে লা’ঞ্ছি’ত হয়েছেন। বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিএনপি-জামাত জোটের নি’র্মম’তা’র শি’কা’র হয়েছিলেন। এদেরকে নিয়েও এখন ভ’য়। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন জলে থাকা মাছের মতোন। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জনবি’চ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারেন না। আর এই পরিস্থিতিতে করোনার যে ভ’য়াল থাবা, সেই থাবায় ঝ’ড়ের মুখে পড়েছে জন’বান্ধব এই দলটি।

আর সামাজিক দুরত্ব রেখে আওয়ামী লীগের নেতারা ঘরে থাকবে- এটা আওয়ামী লীগের অনেক নেতার কাছেই অস’ম্ভব ব্যাপার। কিন্তু দলের এই সিনিয়র নেতারা, যাদের হাতে এই দেশ, যারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, যারা এই দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন- তাঁদের সুরক্ষা করা আওয়ামী লীগের জন্য এক চ্যা’লেঞ্জ। আওয়ামী লীগ যেন এখন এক অন্যরকম ঝ’ড়ের মুখে।’

সর্বশেষ নিউজ