৩০, নভেম্বর, ২০২০, সোমবার

আষাঢ় এলেই সারিসারি বাসা বাদে সাদা বক ও পানকৌড়ি দল

মল্লিক মো.জামাল,বরগুনা প্রতিনিধিঃ আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। হঠাৎ একঝাঁক সাদা বক উড়ে এসে বসে এক বাড়িতে। বাসা বাঁধে, বাচ্চা ফোটায়। বাড়ির মালিক বক ও তাদের ছানাগুলোকে মাঝে মাঝে খেতে দেন। ছানাগুলো বাসা থেকে পড়ে গেলে তুলে দেন বাসায়। পাখিগুলো মালিকের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়। ছানাগুলো বড় হয়ে উঠলে পাখিগুলো চলে যায়।

তবে এবার শুধু বক নয়, সাদা বকের সঙ্গে দেখা যায় কালো পানকৌড়ি। এক বাড়ি থেকে দুই বাড়ি, তিন বাড়ি বাসা বাঁধে। এর পর থেকে সংখ্যাটা শুধু বাড়ছেই। সাদা আর কালো রঙের পাখিতে ঢেকে আছে গাছের ডালপালা। পাখির বিষ্ঠায় সাদা হয়ে আছে বাড়ির চাল ও উঠান। সকাল হলে খাবারের সন্ধানে ছুটছে ওরা। সন্ধ্যা হলে ফিরে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে। পাখির ঝাঁক দেখতে দূূর-দূরান্ত থেকে আসছেন বহু পাখিপ্রেমী মানুষ।

গ্রামবাসীর ভালোবাসায় পাখির এই অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে তালতলী উপজেলার ৭নং সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামে। সার্বক্ষণিক পাখিগুলোর দিকে নজর রাখছেন গ্রামের ফোরকান ফরাজী ও আলকাছ ফরাজী সহ আশপাশের লোকজন। তাঁদের বাড়ি থেকেই প্রথম শুরু হয়েছিল পাখিগুলোর আতিথেয়তা।

কথা হয় ফোরকান ফরাজী সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামের আশপাশে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি বিল ও খাল। আষাঢ় মাসের শুরুতে নদী ,খাল ও বিলে বর্ষার পানি আসতে শুরু করলেই বক আর পানকৌড়িগুলো আসতে শুরু করে। গাছে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয়, বাচ্চা ফোটায়। নদী ও বিল থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এরপর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উঠলে অন্যত্র চলে যায়। ছয় মাসের মতো পাখিগুলো এখানে থাকে বলে জানালেন তিনি।

ফোরকান ফরাজী ভাষায়, ‘পাখিগুলো ভালোবাসা বোঝে। তাই ফিরে আসে বারবার। আমরাও ওদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। বিষ্ঠা/মল ও উচ্ছিষ্ট খাবারে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে যায়। দুর্গন্ধে মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। তবুও পাখিগুলোর জন্য মায়া লাগে। তাই অবহেলা করি না। শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে রাত-দিন পাহারা দিয়ে রাখি।’

কথা হলো স্থানীয় লাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন সঙ্গে। তিনিও পাখিপ্রেমী। তাই নানা সমস্যা সত্ত্বেও পাখিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ গ্রামের মানুষের মতো সবাইকে পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ নিউজ