২৫, অক্টোবর, ২০২০, রোববার

আফগানিস্তান থেকে শিখ-হিন্দুদের উড়িয়ে আনলো ভারত

আফগানিস্তান থেকে সে দেশের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মোট ১১ জন সদস্যকে ভারতে উড়িয়ে নিয়ে এসে আশ্রয় দিয়েছে দিল্লি। এই পরিবারগুলো সে দেশে ধর্মীয় নির্যাতন বা সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হয়েছিলেন, এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দিয়ে ভারতে এনে তাদের নাগরিকত্বর আবেদন বিবেচনা করা হবে ।

গত বছরের ডিসেম্বরে পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশ-সহ প্রতিবেশী দেশগুলোর নির্যাতিত সংখ্যালঘু বা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

আফগানিস্তান থেকে এই শিখ ও হিন্দুদের নিয়ে আসার পদক্ষেপ যে তারই ধারাবাহিকতায় নেওয়া হল ভারত সরকার সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আফগান এয়ারলাইন ক্যাম এয়ারের একটি বিশেষ বিমান কাবুল থেকে রওনা হয়ে রোববার বিকেলে দিল্লিতে অবতরণ করে – আর তার যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন এমন এগারোজন আফগান নাগরিক, যারা আফগানিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ভারতে বসবাসে আগ্রহী।

এরা সবাই শিখ বা হিন্দু সম্প্রদায়ের – আর ভারত সরকার তাদের সবার জন্য লং টার্ম (দীর্ঘমেয়াদি) ভিসার ব্যবস্থা করেছে, বহন করেছে তাদের যাতায়াতের খরচও।

কেন তাদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে নিয়ে আসা হল, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, “সম্প্রতি আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখদের ওপর হামলার ঘটনা খুব বেড়ে গেছে – আর এতে জঙ্গীদের মদত দিচ্ছে তাদের বাইরের দেশের বন্ধুরা।”

“ফলে আমরা আফগানিস্তানের শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের কাছ থেকেই অনুরোধ পাচ্ছি তারা ভারতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান।”

“তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই এই কোভিড-১৯ লকডাউনের মধ্যেও কাবুলে আমাদের দূতাবাসের সাহায্যে আমরা তাদের ভারতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছি।”

আফগান হিন্দু ও শিখদের ভারতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটা প্রথম ব্যাচ – এরপর ওই দুই সম্প্রদায়ের আরও লোকজনকে নিয়ে আসা হবে বলেও সরকার জানিয়েছে।

দিল্লিতে আসার পর বিবেচনা করা হবে তাদের নাগরিকত্বের আবেদন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ কাবুলের একটি শিখ গুরদোয়ারায় বিধ্বংসী জঙ্গী হামলায় মোট ২৬জন – ২৫জন আফগান শিখ ও একজন ভারতীয় শিখ – নিহত হয়েছিলেন।

প্রথম ব্যাচে যারা ভারতে ফিরে ‌এসেছেন তারা অনেকেই সে দিনের নিহতদের আত্মীয় পরিজন।

সর্বশেষ নিউজ