২৬, অক্টোবর, ২০২০, সোমবার

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অত্যাচারে কৃষি কর্মকর্তা নাজেহাল

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ তালায় উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা নাজেহার হয়ে পড়েছে।নিরুপায় হয়ে তিনি প্রাক্তন স্ত্রীর রোষানল থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন।

উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে তালা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শেখ আবু জাফর জানান, বিগত ১২/৪/১৯৮৬ ইং তারিখে তালা থানার জালালপুর ইউনিয়নের দোহার গ্রামের মৃত শের আলীর কন্যা শাহানাজ নারগিছ পারভীনের সাথে তার বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে সে সংসারের টাকা পয়সা চুরি, স্বেচ্ছাসারিতা, স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত বাস্তভিটার জমি গোপনে তার ভাইদের নামে দানপত্র করে দেয়া, পিতার বাড়িতে থাকার দাবীতে ঘন ঘন তালাক চাওয়া, মারপিট, সন্ত্রাসী ভাইদের দ¦ারা জমিজমা জোর দখল করার পায়তারা চালাতে থাকে। একপর্যায়ে স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর ০৩/১০/২০০৬ ইং তারিখে ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার ও এফিডেভিটের মাধ্যমে নারগিছ পারভীনকে তালাক প্রদান করেন।

পোস্ট অফিস ও স্থানীয় জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাধ্যমে তালাক প্রাপ্তির পর নারগিছ পারভীন তার ভাই বিপ্লব কবীর (পুলিশের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত) এবং আরেক ভাই জাহাঙ্গীর আলম ১০/১২ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসি নিয়ে জোরপূর্বক আবু জাফরের বাড়ি দখল করে। একইসাথে নিরীহ আবু জাফরকে মারপিটসহ হত্যার চেষ্টা করলে বাধ্য হয়ে দুই কন্যাসহ পাটকেলঘাটায় যেয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে।

ভুক্তভোগি আবু জাফর জানান, ২০১৮ সালে নিজ জমিতে ব্যাংক লোনের সহযোগিতায় নতুন করে একটি বাড়ী নির্মাণ করি। কিন্তু চাকরির কারনে বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাবেক স্ত্রী নারগিছ পারভীন ও তার ভাই দোহার গ্রামের জাহাঙ্গীর গং গেটের তালা ভেঙ্গে আমার বাড়িটি দখল করে নেয় এবং বাড়িতে রক্ষিত মালামাল তছরুপ করে। এসময় তারা পরিবারের পুর্বপরুƒষদের আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল জমিজমার মূল কাগজপত্রাদি লুট করে নেয়। এরপর থেকে আমি নিজ বাড়ি ছেড়ে দিয়ে পাটকেলঘাটায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি।

আবু জাফর আরও বলেন, ছোট মেয়ের অনুরোধে অফিস থেকে ফেরার সময় মাঝে মধ্যে মেয়ের সাথে দেখা করতে বাড়ির ভিতরে গেলে উক্ত নারগিছ পারভীন তাকে গালিগালাজ করে ও বাড়িতে ঢুকতে দেয়না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উক্ত নারগিছ পারভিন ও তার ভাই আবু জাফরকে হত্যার চেষ্টা করে। এঘটনায় তালা থানায় জিডি করা হয় (যার নং ৭২৮, তারিখ- ২১/১/২০২০খ্রিঃ)। এছাড়া, গত ১৮মে ছোট মেয়ের সাথে বাড়িতে গেলে উক্ত নারগিছ এবার বল্লম দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারী মাসে নারগিছ বেগম তার সাবেক শাশুড়ি (আবু জাফর’র মা) ছকিনা বেগম (৯০) কে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

বর্তমানে উক্ত নারগিছ পারভীন ও তার ভাই জাহাঙ্গীর আবু জাফরকে হত্যার চেষ্টাসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে হয়রানী করার পায়তারা করছে এবং মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী আব জাফর অভিযোগ করেছেন।

সর্বশেষ নিউজ