২০, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

শরীয়তপুরে একদিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫০টি বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন

নাছির আহম্মেদ আলী,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : হঠাৎ করেই একদিনে পদ্মার ভাঙ্গনে জেলার নড়িয়া উপজেলায় চরআত্রা ইউনিয়নের ৮১ নং বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি একতলা ভবনসহ ঐ এলাকার ৫০টি বসত বাড়ী নদীগভে তলিয়ে যাওয়ায় ঐ এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের অপর দ্বীতল ভবনটিসহ বেশকিছু ঘরবাড়ী।আজ বুধবার দুপুর ২টায় সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন।

এছাড়াও গত একমাস ধরে নড়িয়া উপজেলার ৪টি মসজিদ, একটি নুরানী মাদ্রাসাসহ জাজিরা ৪টি ইউনিয়ন ও নড়িয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৫০০ টি বসত বাড়ি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে। প্রত্যক্ষদশীরা বলছেন স্রোতের গতি আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গন আরও ভয়াবহ হতে পাওে বলে স্থানীয় ডা: তৌহিদুল ইসলামসহ একাধিক লোক জানান।

বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মানদী বেষ্টিত জাজিরা উপজেলা বিলাশপুর, কুন্ডেচর, পূর্বনাওডোবা ও নড়িয়া উপজেলার চরআত্রাসহ চরাঞ্চলের ২টি ইউনিয়নে পদ্মানদী ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। আজ দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি পাকা ভবন মুহুর্তের মধ্যেই চলেগেছে পদ্মাগর্ভে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের ত্রিশ গজ দূরত্বে থাকা দ্বিতলা অন্য ভবনটিও। এই ভবনটিও যে কোন সময় গ্রাস করবে আগ্রাসী পদ্মা।

এ দিকে স্রোতের তোরে আজ চরআত্রা ইউনিয়নের বসাকের চরের ৫০টি বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। গত এক মাসে ধরে নড়িয়া উপজেলার ৪টি মসজিদ, একটি নুরানী মাদ্রাসাসহ জাজিরা ৪টি ইউনিয়ন ও নড়িয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৫০০ টি বসত বাড়িসহ প্রায় ৩ শতাধিক ফসলি জমি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে।

জাজিরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান ভুইয়া জানান, পদ্মার প্রবল স্রোতে এ যাবত জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, বড়কান্দি ও নাওডোবা ইউনিয়নের ৪০৩ টি বসত বাড়িসহ অনেক ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিতদের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে এবং ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রুপা রায় জানান, পদ্মার প্রবল স্রোতে আজ চরাত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি পাকা ভবন পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩০ গজ দুরত্বে থাকা অন্য দ্বিতল ভবনটিও রয়েছে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে। এছাড়াও আজ

বসাকেরচরের ৫০টি বসত বাড়ি নদিগর্ভে চলে গেছে। এর আগে আরো ৪৫ টি বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিতদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, পদ্মার স্রোত বাড়ার সাথে সাথে আমরা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্কুল ভবনটি রক্ষার জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিং করেও শেষ রক্ষা হলো না। তবে ঝুঁকির বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা ছিল। বর্ষা মৌসুম চলে যাওয়ার পর ওই সকল শিক্ষার্থীদের পড়া-শোনা চালু রাখার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত কাজ চলছে। ওই সকল পরিবারগুলোকে ঘর নির্মানের জন্য ঢেউটিন ও নগদ টাকা দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ