২৫, অক্টোবর, ২০২০, রোববার

অভিনব কায়দায় প্রতারণা কুমারখালীতে ২৫ লক্ষাধিক টাকার গরু নিয়ে ব্যাপরী উধাও

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ একদিকে করোনার মহামারি,অন্যদিকে পশু বাজারে মন্দা।সবমিলিয়ে এবার যেন দিশেহারা পশু পালনকারি কৃষক ও খামারিরা।কৃষকদের এই অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ২৩ জন কৃষকের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার গরু নিয়ে মুন্নু (৪০) নামের এক ব্যাপরী উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।ঘটনাটি উপজেলার চাপড়া ও যদুবয়বা ইউনিয়নে ঘটেছে।এবিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যদুবয়বা ইউনিয়নের দক্ষিণভবানীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম।

প্রতারক মুন্নু ব্যাপরী পার্শ্ববর্তি রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার হোগলাডাঙ্গী গ্রামের মৃত মৃত আনছার আলী ব্যাপরীর ছেলে। প্রায় ৪ বছর যাবৎ তিনি কুমারখালী উপজেলার বাগুললাট ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শরিফুলের বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বপরিবারে বসবাস করত।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর আগে মুন্নু ব্যাপরী নিজের এলাকায় ধারদেনা করে পালিয়ে এসে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ও বাগুললাট ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসাতে স্ব-পরিবারে বসবাস করতে থাকেন।এভাবেই গড়ে উঠে স্থানীয়দের সাথে সুসম্পর্ক। এখানে পুনরায় শুরু করেন গরুর ব্যবসা।তিনি এখান থেকে গরু কিনে জন্মস্থান বালিয়াকান্দি বাজারে তার ভাই আব্দুর রউফের নিকট পাঠাতেন আর সেখানে রউফ গরু বিক্রি করে টাকা পাঠান এখানে।ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে মাঝে মাঝে স্থানীয়দের সাথে টাকা পয়সা লেনদেন করতেন।কখনও অর্ধেক বাকিতে কখনও বা সম্পূর্ণ বাকিতে গরু কেনাবেচা করতে তিনি।বিগত বছর গুলোর ন্যায় এবারও আসন্ন কুরবানির ঈদকে পুঁজি করে গত ৫ জুলাই হতে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চাপড়া ও যদুবয়বা ইউনিয়নের ২৩ জন কৃষকের নিকট থেকে ২৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার গরু কিনেন মুন্নু ব্যাপরী। প্রতিশ্রুতি দেন ২৫ জুলাই শনিবার কুষ্টিয়ার বালিয়াপড়া হাটে গরু বিক্রি করে কৃষকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করবেন তিনি।কিন্তু হাটে গরু বিক্রি হলেও কৃষকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করেই স্ব-পরিবারে উধাও হয়েছেন প্রতারক মুন্নু ব্যাপরী।

লিখিত অভিযোগকারী শরিফুল ইসলাম বলেন,মুন্ন নামের এক গরু ব্যাপরী বালিয়াকান্দি থেকে এসে আমাদের এখানে বাসা ভাড়া নিয়ে গরুর ব্যবসা শুরু করেন।স্থানীয়দের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।মাঝে মাঝে বাকিতে গরু কেনাবেচা ও ধার নেওয়া দেওয়া করতেন।সেই সুযোগে কুরবানির ঈদকে পুঁজি করে স্থানীয় ২৩ জনের নিকট থেকে বাকিতে গরু কিনে ২৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বকেয়া রেখে পালিয়ে গেছে।তিনি আরো বলেন,এব্যাপারে কুমারখালী ও রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ভাড়রা গ্রামের বিরা শেখের পুত্র মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ৩ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা মিটিয়ে আমার কাছ থেকে দুইটা গরু কিনে মুন্নু ব্যাপরী।পরে শনিবারে সবটাকা পরিশোধের কথা বলে মাত্র ৭০ হাজার টাকা দেয়।এখন শুনছি ব্যাপারী পালিয়েছে।আরেক ভুক্তভোগী শরিফুল বলেন,ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলাম। এক লক্ষ ৯০ হাজার টাকা মিটিয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে পালিয়েছে মুন্নু।ব্যাংকের লোকজন টাকার জন্য খুব ঝামেলা করছে।দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের শামীম হোসেন বলেন,আমার ৫ লক্ষ ৭০ হাজার বকেয়া টাকা না দিয়েই পালিয়েছে মুন্নু।তিনি আরো বলেন,আমি তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ করতে গিয়ে শুনি সে ওই এলাকায়ও অনেক ধার দেনা করেছেন।

এবিষয়ে প্রতারক মুন্নুর ভাই আব্দুর রউফ ব্যাপরী মুঠোফোনে বলেন,আমার ভাই এলাকায় ধার দেনা করে চার বছর আগেই পালিয়েছে।আমাদের তার কোন যোগাযোগ নাই।

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন,এমন ঘটনা আমার জানা নেই।তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ নিউজ