২৯, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার

জার্মানিতে লকডাউন-বিরোধী বিক্ষোভ যেভাবে গতি পেলো

গত শনিবার বার্লিনে প্রায় ২০ হাজার মানুষ করোনা প্রতিরোধে সরকারের নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন৷ আনসেল্ম লেনৎস নামের সাবেক এক সাংবাদিক প্রথম এমন বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন৷ খবর ডয়চে ভেলের।

লেনৎসের অভিযোগ, গণতন্ত্র বিলুপ্ত করতে জার্মান রাষ্ট্র বিভিন্ন ওষুধ ও প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে৷ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বার্লিনের রোজা লুক্সেমবুর্গ চত্বরে ৪০ জন মানুষ জার্মানির প্রথম লকডাউন-বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল৷

প্রথম বিক্ষোভের প্রায় একমাস পর আয়োজিত আরেক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক হাজার জন হয়৷ তাদের কয়েকজন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের বিরুদ্ধে ‘ভ্যাকসিনেশন ডিক্টেটরশিপ’-এর অভিযোগ আনেন৷

বিক্ষোভে অংশ নেয়া প্রথম প্রখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন কেন ইয়েবসেন৷ তিনি একজন সাবেক বেতার সাংবাদিক৷ ইহুদি-বিরোধী মন্তব্যের কারণে ২০১১ সালে তার চাকরি চলে যায়৷ এরপর তিনি ইউটিউবে একটি চ্যানেল খোলেন৷ প্রায় পাঁচ লাখ অনুসারী নিয়মিত তার ভিডিও দেখে থাকেন৷ এমন এক ভিডিওতে ইয়েবসেন দাবি করেন, টিকা বিক্রি করে টাকা কামাতে বিল গেটস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন৷ মাত্র এক সপ্তাহে এই ভিডিও ৩০ লাখ বার দেখা হয়৷

জার্মানির প্রখ্যাত ভেগান রাঁধুনি আটিলা হিল্ডমান বিল গেটসকে ‘শয়তান’ মনে করেন৷ আর জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে মনে করেন ‘চীনের পুতুল’৷ সাম্প্রতিক সময়ে লকডাউনের অন্যতম সমালোচক হয়ে উঠেছেন হিল্ডমান৷ ইন্সটাগ্রাম থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ‘টেলিগ্রাম’-এ অ্যাকাউন্ট খোলেন৷ প্রায় ৬৮ হাজার জন তাকে অনুসরণ করেন৷

ইয়েবসেন ও হিল্ডমানের মতো আরো কয়েকজন ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করে লকডাউন-বিরোধী একটি অংশ গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন৷ তারাই শনিবার বার্লিনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল৷

ইয়েবসেন ও হিল্ডমান এই বিক্ষোভ অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন৷ অংশগ্রহণকারীদের তারা ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ বিক্ষোভে প্রায় দশ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা৷ যদিও বাস্তবে সংখ্যাটি মাত্র ২০ হাজার৷

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া ডয়চে ভেলের সাংবাদিককে নানাভাবে অপমান করা হয়েছে এবং তার মাস্ক খুলে ফেলতে বলা হয়েছে৷

জার্মানিতে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ১৪ হাজার ২১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ মারা গেছেন নয় হাজার ১৮৩ জন৷

সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিতে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা অনেকটা কমে এলেও গত দুইদিনে সংখ্যাটি আবার দিনপ্রতি এক হাজারের বেশি করে বেড়েছে৷

করোনা সংক্রমণের হার যখন অনেক বেশি ছিল তখন তার বিস্তার ঠেকাতে সরকার চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করেছিল৷ স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল৷ কর্মক্ষেত্রেও উপস্থিতি কমাতে বলা হয়েছিল৷ বড় ইভেন্ট আয়োজন বন্ধ ছিল৷ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল৷ মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ছিল৷

এখন অনেককিছুই শিথিল করা হয়েছে৷ তবে গণপরিবহণ, দোকানপাটে এখনও বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হচ্ছে৷

সর্বশেষ নিউজ