২৭, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

সমঝোতা চান মিশা

সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠন একত্রে শিল্পী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিশা-জায়েদকে ‘বয়কট’ করে। এরপর গেল ১৯ জুলাই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে সমাধান না হলে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেন মিশা। কিন্তু আল্টিমেটামের সাত দিন পার হলেও কোনো ঘোষণা দেয়নি ১৮ সংগঠন। উল্টো তারা মিশা-জায়েদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো সমঝোতা করবেন না বলে জানান নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার।

এদিকে শিল্পী সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে মিশা সওদাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংঘাত নয়, সিনিয়র শিল্পীদের মাধ্যমে সমঝোতা চান তিনি। আর কেউ অন্যায় করলে তাকে অবশ্যই শাস্তির মুখে পড়তে হবে উল্লেখ করেন।

‘চেতনা’ ছবির নায়ক মিশা সওদাগর বলেন, ‘নায়ক হয়ে আবির্ভাব চলচ্চিত্রে। দুই ছবির পর খলনায়ক হয়ে দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রে কাজ করছি। এই সময়ে আমি কখনো কোনও অনৈতিক কাজ করিনি, কোনোদিন সমর্থনও করিনি। চলচ্চিত্রে আমার কোনও অপবাদ নেই। তাই আমি চাই আমাদের সংঘাত না করে সমঝোতা করা দরকার।’

শিল্পীদের সুবিধা কমানোর বিষয়ে মিশা বলেন, ‘চলচ্চিত্রের প্রযোজক সমিতির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিল্পীদের রেমুনেশনের বিষয়ে তা কিন্তু আমরা অনেক আগেই মেনে নিয়েছিলাম। কারণ, এর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ জড়িত। আমাদের কিছু সদস্য কনভেন্সের বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছিল। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে আমাদের একমত হতেই হবে।’

মিশা বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলি, প্রযোজকেরা হচ্ছেন আমাদের আত্মা, পরিচালকেরা আমাদের মাথা আর শিল্পীরা হচ্ছেন চোখ। অন্য যে সংগঠন রয়েছে সেগুলো আমাদের হাত, পা, লিভার, কিডনি। সবগুলো মিলেই শিল্পীরা পরিপূর্ণ মানবদেহ। আমরাই চলচ্চিত্র। তাই আমরা সবগুলো সংগঠন বিভেদ ভুলে একত্রে কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে সিনিয়রদের অবগত করা হয়েছে, আশা করি আমাদের মধ্যে সুস্থ সমাধান হয়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই বিএফডিসিতে সংবাদ সম্মেলন করে চলচ্চিত্রের ‘স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে’র অভিযোগে অভিনেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কটের ঘোষণা দেয় চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন।

ঘোষণায় বলা হয়, যদি এ দুই অভিনেতাকে নিয়ে কোনো পরিচালক বা প্রযোজক কাজ করেন, তাহলে তাদেরও সদস্যপদ বাতিল করা হবে। এরই প্রতিবাদে ১৯ জুলাই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানেই মিশা ১৮ সংগঠনকে সাতদিনের আল্টিমেটাম দেন।

অন্যদিকে ১৯ জুলাই একই দিনে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ও সভাপতি মিশা সওদাগরের পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় নামেন সদস্যপদ হারানো শিল্পীরা। তারা দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৮৪ জনের সদস্যপদ বাতিল করেছেন জায়েদ খান। এই কাজে তাকে সহায়তা করেছেন মিশা সওদাগর।

সর্বশেষ নিউজ