২৯, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশসহ যে ৯২টি দেশ পাচ্ছে গ্যাভির করোনা ভ্যাকসিন

বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের কারণে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর এই সংকটের একটা ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে। পৃথিবীর সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সাহায্য ও অর্থলগ্নি করা প্রয়োজন, যেন কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়ামাত্রই শুধু সৌভাগ্যবান কয়েকটি রাষ্ট্র নয়, বরং সারা দুনিয়াকে এই বালাই থেকে রক্ষা করতে পারি।’ বলেন গ্যাভি বোর্ডের চেয়ার, ড. নগোজি ওকোঞ্জো-আইওয়েলা। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট ‘গ্যাভি’র (দ্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস) বোর্ড গত ৩০ জুলাই এ ব্যাপারে একমত হয়েছে। গ্যাভি দপ্তর এর তদারকি করবে বলেও একমত হয়েছে ওই বোর্ড।

গ্যাভি প্রধান আরও বলেন, ‘আলোর গতিতে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। তার মানে, প্রত্যেকে নিরাপদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা কেউই নিরাপদ নই। এ কারণে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সাহায্য ও অর্থলগ্নি করা প্রয়োজন, যেন কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়ামাত্রই সেটির মাধ্যমে শুধু সৌভাগ্যবান কয়েকটি রাষ্ট্র নয়, বরং সারা দুনিয়াকে এই বালাই থেকে রক্ষা করতে পারি। এ ক্ষেত্রে গ্যাভি বিভিন্ন সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উৎপাদনকারী এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করবে।’

২০২১ সালের শেষ নাগাদ এই ৯২ দেশসহ এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সব দেশে ২০০ কোটি ডোজ নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন হস্তান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে গ্যাভি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়ার পরপরই দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার অন্তত ২০ শতাংশের জন্য সেটি সরবরাহের প্রাথমিক চেষ্টা চালানো হবে বলে গ্যাভির পক্ষে জানানো হয়।

যে ৯২টি দেশ এই সুযোগ পাবে :

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মাথা পিছু আয়ের উপাত্ত ধরে ৯২টি দেশের তালিকা করেছে গ্যাভি কোভ্যাক্স এএমসি।

নিম্ন আয়ের দেশ: আফগানিস্তান, বেনিন, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্দি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, এরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়া, গিনিয়া, গিনিয়া-বিসাউ, হাইতি, উত্তর কোরিয়া, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, মালায়ি, মালি, মোজাম্বিক, নেপাল, নাইজার, রোয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টঙ্গো, উগান্ডা এবং ইয়েমেন।

নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ: বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, বলিভিয়া, ক্যাপ ভার্ডি, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কমোরস, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, জিবুতি, মিসর, এল সালভাদর, এসওয়াতিনি, ঘানা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, কিরিবাতি, কিরজিকিস্তান, লাওস, লেসোথো, মৌরিতানিয়া, মাইক্রোনেসিয়া, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, মিয়ানমার, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ, সেনেগাল, সলোমন আইল্যান্ড, শ্রীলংকা, সুদান, তিমুর-লেস্তে, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভানুয়াতু, ভিয়েতনাম, ওয়েস্ট ব্যাংক অ্যান্ড গাজা, জাম্বিয়া এবং জিম্বাবুয়ে।

বিশ্বব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সুবিধাভুক্ত দেশ: ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গুয়ানা, কসোভো, মালদ্বীপ, মার্শাল আইল্যান্ড, সামোয়া, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, টোঙ্গা এবং টুভালু। সূত্র: গ্যাভি ওয়েবসাইট

সর্বশেষ নিউজ