২৬, অক্টোবর, ২০২০, সোমবার

সিরাজদিখানে আট পুরুষ ধরে বসবাসকারী সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃ আমির হোসেন ঢালি সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের গৌরিপুরা গ্রামের আট পুরুষ ধরে বসবাসকারী সংখ্যালঘু একটি পরিবারের ৮১ শতাংশ সম্পত্তি আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে থৈরগাঁও গ্রামের মৃত মরন মাঝির ছেলে সোবহান মাঝি (৬০) ও তার মেয়ে জামাই দক্ষিন নন্দনকোনা গ্রামের সাইদুল ইসলাম (৪৫) দ্বয়ের বিরুদ্ধে।

সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য ভুক্তভোগী মৃত শীতল গাঙ্গুলীর ছেলে সুদর্শন গাঙ্গুলী তাদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্নসাতের অভিযোগ এনে পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, জেলা প্রশাসক, পুলিশের আইজিপি ও জাতীয় প্রেসক্লাব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী সুদর্শন গাঙ্গুলীর কাছ থেকে গত ২০১৭ সালে সোবহান মাঝি ৮১ শতাংশ সম্পত্তি আত্নসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিক ভাবে তার মেয়ের জামাই সাইদুল ইসলামের নামে আম মোক্তার নামা দলিল করিয়ে নিয়ে সুকৌশলে বর্ণিত সম্পত্তি সোনিয়া বেগম ও সাদিয়া পারভীন শ্রাবণী নামে দুই ব্যক্তির কাছে সাব কবলা দলিল মূলে বিক্রি করে দিয়ে সম্পত্তি হজমের সমাপ্তি ঘটায়। এমনকি সম্পত্তি হজমের পর ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজনদের নানা ভাবে হুমকি দিয়ে বোবা বানিয়ে রাখার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত জামাই শ্বশুরসহ তাদের লোকজন। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার পর তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে স্থানীয় সাংবাদিকদের স্বরণাপন্ন হয়েছেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ৯ আগষ্ট রবিবার দুপুর ১১টা সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, অনুমান ১৭-১৮ বছর পূর্বে গৌরিপুরা গ্রামের সুদর্শন গাঙ্গুলী ও একই গ্রামের মৃত মতিলালের ছেলে ভবশীল গংদের সাথে সম্পত্তির রেকর্ড ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধ চলছিলো। গাঙ্গুলী বাড়ীতে আসা যাওয়া ও তাদের আস্থাভাজন লোক হওয়ার সুবাদে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলাকালী সময়ে সোবহান মাঝি সুদর্শন গাঙ্গুলীকে প্রতিপক্ষের দ্বারা বিরোধীয় সম্পত্তি দখল হওয়ার ভয় দেখায় এবং বিরোধীয় সম্পত্তি তার মেয়ের জামাইর নামে আম মোক্তার নামা দলিল করে দিতে বলে।

সেসময় সুদর্শন গাঙ্গুলী শারিরীক অসুস্থতা ও পরিবারে উপযুক্ত বয়সের কেউ না থাকায় সোবহান মাঝির কথায় রাজি হয়ে সুদর্শন গাঙ্গুলী তার পৈত্রিক সম্পত্তি তথা গৌরিপুরা মৌজাস্থিত আর,এস-১৪৯ নং দাগ হইতে ২৩ শতাংশ, আর,এস-১৪৬ নং দাগ হইতে ২৫ শতাংশ ও আর,এস-১৫৩ নং দাগ হইতে ৩৩ শতাংশ সর্ব মোট ৮১ শতাংশ সম্পত্তি সোবহান মাঝির মেয়ের জামাই সাইদুল ইসলামের নামে শর্ত সাপেক্ষে আম মোক্তার নামা দলিল করে দেয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে গৌরিপুরা মৌজাস্থিত আর, এস-১৪৫ নং দাগের ২৫ শতাংশ ও আর, এস-৯৪ দাগের ৩৫ শতাংশ দুই দাগে মোট ৬০ শতাংশ সম্পত্তি ভবশীল গংদের নামে সাব কবলা দলিল মূলে লিখে দিয়ে পূর্ব বিরোধীয় সম্পত্তির ঝামেলার ইতি টানেন সুদর্শন গাঙ্গুলী। সুদর্শন গাঙ্গুলীর ছেলে মিঠুন গাঙ্গুলী চলতি বছরের জুলাই মাসে সম্পত্তির খাজনা দিতে ভূমি অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ওই সম্পত্তির খাজনা পরিষোধ করা হয়ে গেছে। পরে সুদর্শন গাঙ্গুলী ও তার ছেলে মিঠুন গাঙ্গুলী সোবহান মাঝিকে ডেকে তাদের আম মোক্তারকৃত সম্পত্তি ফেরত চান। শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তির ঝামেলা মিটে গেলে সোবাহান মাঝির মেয়ের জামাইর নামে দেয়া আম মোক্তার নামা দলিল সুদর্শন গাঙ্গুলীকে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও উল্টো আম মোক্তার নামা দলিল ফেরত না দিয়ে ৩ দাগে ৮১ শতাংশ সম্পত্তি আত্নসাত করে বসে আছে অভিযুক্ত জামাই ও শ্বশুর।

ভুক্তভোগী সুদর্শন গাঙ্গুলীর পক্ষে তার ছেলে মিঠুন গাঙ্গুলী বলেন, ২০১৩ সালে প্রতিবেশী শীলদের সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়া বিরোধ ছিলো। আমার বাবা একজন ক্যান্সারের রোগী। আমাদের বিশ্বস্ত সোবহান মাঝি আমার বাবাকে এসে বলল আপনার সম্পত্তি শীলদের লোকেরা দখলের পায়তারা করতেছে। আমার বাবা তার প্ররোচনায় পড়ে তার মেয়ের জামাই সাইদুলের নামে শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যদের হাত থেকে সম্পত্তি বেদখলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পাওয়ার নামা দেয়।

গত বছর শীলদের সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়া যে ঝামেলা ছিলো সেটার মিমাংসা করার পর সোবাহানকে আমার বাবা বলে আমাদের পাওয়ার নামা ফেরত দেন। সোবহান দেই দিচ্ছি করে আমাদের ঘুরাইতে থাকে। পরে আমরা জানতে পারি যে, সাইদুল পাওয়ার নামা নিয়া আমাদের ৮১ শতাংশ সম্পত্তি আত্নসাত করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এই বাড়িতে আমরা ৮ পুরুষ ধরে বসবাস করে আসছি। তারা আমাদের সম্পত্তি আত্নসাত করে আমাদেরকে এ দেশ থেকে বিতারিত করার পায়তারা করছে।

আমরা এই দেশ থেকে কোথাও যেতে চাই না। আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্নসাত কারীদের কাছ থেকে ফিরে পেতে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সাথে তদন্ত পূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। অভিযুক্ত সাইদুল বলেন, আমি জমি কিনে পাওয়ার নামা নিয়েছি! আমি দলিলের বাহিরে কোন কথাই বলবো না। এর চেয়ে বেশী কথা আমি আপনার সাথে বলতে চাই না বলে মুঠোফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।

সর্বশেষ নিউজ