২৮, অক্টোবর, ২০২০, বুধবার

নবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর উপর হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা নয়ানগর এলাকার ঠিকাদারী ব্যবসায়ী হিজবুল্লাহ (৩৫) এর উপর হামলা হয়েছে৷ এঘটনায় বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই মিনাল মিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হিজবুল্লাহ’র ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ নয়ানগর এলাকার মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ( ৭ অাগস্ট) শুক্রবার বিকেল অানুমানিক ৩ টার দিকে হিজবুল্লাহ তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বান্দুরার দিকে অাসছিলেন। মৌলভীডাঙী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে মিনাল মিয়ার উপস্থিতিতে তিনিসহ মো. রাজীব, সুজন, মো. কাইয়ূম, নয়ন, তায়েবসহ অারো ৪-৫ জন লোক হিজবুল্লাহ এবং তার দুই বন্ধুর উপর হামলা করেন৷ হিজবুল্লাহসহ দুই বন্ধু অামির হোসেন এবং অামজাদ হোসেনের মাথায় লাঠিসোটা দিয়ে অাঘাত করেন। এমনকি কিল-ঘুষি দিয়েও মারধর করতে থাকেন৷ একপর্যায়ে কেউ এগিয়ে না অাসায় স্থানীয় লোকজন তৎক্ষনিক থানায় কল করলে থানা পুলিশের ডিউটিরত থাকা অবস্থায় বান্দুরা বাজার থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে, হিজবুল্লাহ এবং তার দুই বন্ধুকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়৷ এছাড়া পুলিশের উপস্থিতি টেরপেয়ে হামলাকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়৷

হিজবুল্লাহ জানান, অামার সাথে মিনাল মিয়ার সাথে পূর্ব কোন শত্রুতা নেই৷ অামি কোন এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সাপোর্ট করি বলে তিনি অামার উপর ক্ষিপ্ত। গত কয়েকদিন অাগেও অামাকে বান্দুরা বাজারে হুমকি দিয়েছে মিনাল। এমনকি বলেছে পরবর্তীতে অারো খারাপ অবস্থা করবে অামার৷ তিনি অারও বলেন, শুক্রবার এক দাওয়াত থেকে অাসার পথে মোটরসাইকেল গতিরোধ করে অামিসহ অামার দুই বন্ধুর উপর হামলা চালায়৷ অামার সাথে থাকা ব্যবসায়ী কাজের ২ লাখ টাকা এবং একটি মোবাইলসেট হামলাকারীরা নিয়ে গেছে৷ সেদিন ঘটনাস্থলে পুলিশ তৎক্ষনিক না অাসলে অামাকে ওরা মেরেই ফেলতো৷ অামি এঘটনায় বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই মিনাল মিয়াসহ মোট ৬ জনের নামে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। যদি এখান থেকে সঠিক বিচার না পাই তাহলে অাদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করবো৷ ( এসব বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড রয়েছে ক্রাইম ভিশন ডেস্কে )।

এবিষয়ে জানতে চেয়ে মিনাল মিয়ার মুঠোফোনে ক্রাইম ভিশন ডেস্ক থেকে তার মুঠোফোনে সংযোগ দিলে তিনি জানান, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অামি সেদিন একটি বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিলাম। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না৷ মসজিদের কমিটি নিয়ে ঐদিন ঝামেলা হয়েছে৷ চেয়ারম্যান সাহবে যখন মসজিদের ঝামেলা মিমাংসায় উপস্থিত ছিল তখন হিজবুল্লাহ অামার ভাই চেয়ারম্যান হিল্লাল মিয়ার সাথে খারাপ অাচরন করেছে। তখন হিজবুল্লাহ চলে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ঐএলাকার লোকজন তাকে মারধর করেছেন৷

এবিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার এসঅাই শাহাদাত হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মিনাল মিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে হিজবুল্লাহ’র পরিবার ৷ বিষয়টি তদন্ত নিয়ে ব্যবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ নিউজ