২৫, অক্টোবর, ২০২০, রোববার

কুমারখালীতে নিজের জমি না থাকলেও চল্লিশবিঘা জমিতে অবৈধভাবে মাছ চাষ

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ নিজের একবিঘা জমি না থাকলেও কৃষকের চল্লিশ বিঘা ধানি জমি বেদখল নিয়ে প্রায় পনেরো বছর কার্প জাতীয় মাছ চাষ করে ফসল তছরুপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এছাড়াও প্রতিবাদ করলে নিয়মিত হুমকি ধামকি প্রদানসহ উচ্ছেদ করার হুঁশিয়ারীও দেওয়া হয় কৃষকদের ।ঘটনাটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বিলে ঘটেছে।অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম লিটন।সে ওই এলাকার আকুব্বর মেম্বারের প্রভাবশালী ছেলে।তিনি পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী।

সোমবার সকালে সরেজমিন গেলে,একই এলাকার ভুক্তভোগী আক্কাসের ছেলে রাশিদুল হোসেন, আদু শেখের ছেলে কেসমত আলী, সেকেনের ছেলে স্বপন এবং প্রজেক্ট ব্লকের মালিক লিয়াকতের ছেলে আব্দুল হালিম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন সহ আরো চার-পাঁচজন কার্প জাতীয় রাক্ষসী মাছ চাষ করে ফসলের নব্বই ভাগই ক্ষতি করে। এই ব্লকে তাদের কোন জমি না থাকলেও শুধুমাত্র গায়ের জোড়ে হুমকি ধামকি দিয়ে এমন অনাচার করে আসছে পনেরো বছর ধরে।তারা আরো বলেন, ব্লকের আওতায় প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে এই মৌসুমে বগুড়াশুন্য প্রজাতির ধান লাগানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ধান বড় হতে থাকে, যেকারনে ডুবে গিয়ে ধান নষ্ট হওয়ার কোন সম্ভবনা থাকেনা এবং এই ধান কার্তিক /অগ্রহায়ণ মাসে কাটা হয়। প্রতি বিঘায় প্রায় ২৫/৩০ মণ ধান পাওয়া যায়। কিন্তু লিটনের কারনে প্রতিবছর তারা লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ বিষয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন বলেন, আমার দ্বারা কারোর কোন ক্ষতি হচ্ছেনা। দুই-এক বিঘা জমির ধান মাছ খেয়েছে। আমার কাছে আসলে ক্ষতিপূরন দিয়ে দিবো। অন্যেক কৃষি জমি কিভাবে ব্যবহার করছেন এমন প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে তিনি দ্রুত অন্যত্র চলে যান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও মৎস্য অফিসারদের মাধ্যমে পরিদর্শন করিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ নিউজ