২৫, অক্টোবর, ২০২০, রোববার

শামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জমি বিক্রির অভিযোগ সুশিল সমাজ ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

নাছির আহম্মেদ আলী,শরীয়তপুর :শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ঊপজেলার একমাত্র শামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর জমি সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ বিরুদ্ধে নিয়ম বর্হিভ’ত জমি বিক্রির অভিযোগ করেছে একই কলেজের রাষ্ট্রবিঞ্জান বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম। পাশাপাশি অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। তিনি চাকুরিরত অবস্থায় নিয়মিত কলেজে আসতেন না। এ নিয়ে সুশিল সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এ বিষয়ে অভিযোগ করায় দীর্ঘদিন যাবত তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত করেছেন প্রভাষককে । সভাপতি বলছেন আমি জমি বদল করে নিয়ম মেনে রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছি। কোন রকম অনিয়ম দূনীর্তি করা হয়নি। প্রভাবশালী হওয়ার কারনে দীর্ঘ তিন বছরেও শিক্ষা ম›ত্রনালয়সহ বিভিন্ন অফিস আদালতে অভিযোগ করে ও কোন ফল হয়নি।

গোসাইরহাট উপজেলার ৩নং ধীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিশ্বনাথ নন্দী ও কলেজ সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ ও গোসাইরহাট ঊপজেলা সদরে অবস্থিত শামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ মৌজে আলী হাওলাদার ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান বিধি বর্হিঃভ’ত ভাবে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন না নিয়ে উক্ত কলেজের ২৪৭.৮৩ শতাংশ জমি এওয়াজ বিনিময় করার বিষয়ে কলেজের পরিচালনা পরিষদের ৯৮নং সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তৎকালীন অধ্যক্ষ মৌজে আলী হাওলাদার ওয়াজ দলিলের পথম পক্ষ হিসাবে কলেজের দখলে থাকা ৬৩ নং দাগের দাসের জঙ্গল মৌজার এস এ ৬১৫ নং খতিয়ানের ৫৪ নং দাগের ২৯ শতাংশ এস এ ২০২ নং খতিয়ানের ৪৭ নং দাগের ৩১.৫০ শতাংশ একই খতিানের ৫০ নং দাগের ৭৫ শতাংশ, একই খতিয়ানে ৫১ নং দাগে ৩০ শতাংশ একই খতিয়ানের ৫২ নং দাগের ২৯ শতাংশ,একই খতিয়ানে ৫৩ নং দাগে ২৯ শতাংশ একই খতিয়ানে ৪৬ নং দাগে ২৪ শতাংশ সহ মোট ২৪৭.৮৩ শতাংশ জমি কলেজ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপত্বি শাসুর রহমান গং দের নামে একই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মৌজে আলী হাওলাদার ১মপক্ষ হয়ে ২০১৬ সালে ২৪৫৬ ও ২৪৫৭ নং সাব কাবলা রেজিষ্ট্রি দলিল মুলে এওয়াজ বিনিময় করে ব্যক্তি মালিককে লিখে দেয়। একই কলেজের একই মৌজার এস এ ৩৮১ নং খতিয়ানের ৪০ নং দাগে ৫৩ শতাংশ একই খতিয়ানের ৪২ নং দাগে ১১ শতাংশ একই খতিয়ানের ৪৩ নং দাগের ১১ শতাংশ ৮০৭ নং খতিয়ানের ১০ নং দাগের ৪৯ শতাংশ ২৫৬ নং খতিয়ানের ১৩ নং দাগের ৬০ শতাংশ একই খতিয়ানের ৭ নং দাগের ২৪.৭২ শতাংশ এস এ ১৭৫/৬ খতিয়ানের ১৪ নং দাগের ৬.১১ শতাংশ ৭৯১ নং খতিয়ানের ৬ নং দাগের ৩৩ শতংশ জমি কলেজ কে হস্তান্তর দেখিয়ে রেজিষ্টি দলিল করা হয়। উল্লেখিত পুরো সম্পত্তিই কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি। এমপিও ভুক্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সরকারী অনুমোদন(মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন) বিহীন হসÍান্তর যোগ্য নহে। যেহেতু গত ৩০ -০৬ ২০১৬ তারিখে শামসুর রহমান কলেজটি জাতীয়করনের লক্ষ্যে নিয়োগ, স্থাবর-অস্থাবর-হস্তান্তর ও অর্থ ব্যায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা। এরপরেও সরকারী নির্দেশ অমান্য করে কলেজের সম্পত্তি এওয়াজ বিনিময়ের নামে নাটক সাজিয়ে ব্যক্তি কেেলজের জমি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করায় স্থানীয় জনসাধারন ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে গোসাইরহাট সদরের বাসিন্দা একই কলেজের রাষ্টবিজ্ঞা বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রতিবাদ করায় তাকে কলেজ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার সকল বেতন ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে। উপায়ন্ত না পেয়ে প্রভাষক দুর্নীতি দমন কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত তিন বছরে ও এ অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি। পাশাপাশি সাবেক অধ্যাক্ষ মৌজে আলী হাওলাদার নিজের ব্যাক্তিগত কাজের জন্য ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ কলেজের ব্যাংক একাউন্ট থেকে নিয়ম বর্হিভ’ত ভাবে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি চাকুরিরত অবস্থায় নিয়মিত কলেজে আসতেন না। কিন্তু বেতন ভাতা পুরোপুরি তোলে নিতেন।

২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর সাবেক অধ্যাক্ষ মৌজে আলী হাওলাদার এর চাকুরীরর মেয়াদ শেষ হলেও সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রতিমাসে ৪৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসি ও সুশীল সমাজের দাবী এ সকল অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্ত করে কলেজের জমি কলেজকে ফিরিয়ে দেয়া সহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মৌজে আলী হাওলাদারের এহেন অনিয়ম দুর্নীতির উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছে।
কলেজের বর্তমান অধ্যাক্ষ মোঃ ফজলুল হক বলেন, ইতিপূর্বে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমি মাত্র আপনাদের কাছে শুনলাম। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।

সাবেক অধ্যক্ষ মৌজে আলী হাওলাদারের টেলিফোনে ফোন বার বার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি। এক পর্যায়ে তার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ফোন রিসিভ করে বলেন, আমার বাবা আপনাদের সাথে কথা বলতে পারবে না। কোন কথা থাকলে আমাকে বলুন। তখন তাকে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বলেন, আমার বাবা কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত না। কলেজের জমি বিক্রির ব্যাপারে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শামসুর রহমান সাহেবের ষ্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

এ ব্যাপারে শামসুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান বলেন, বর্তমান কলেজের মাঠটি ছিল আমাদের ব্যক্তিগত নামে। এ মাঠটি কলেজকে লিখে দেই। বিনিময়ে খালের পাড়ে কলেজের জমি আমাদের নামে লিখে নিয়েছি। যে জমিতে এখন মহিলা কলেজ করা হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী উভয় পক্ষই এওয়াজ বদলির খরচ বহন করার কথা। অথচ এওয়াজ বিনিময়ে খরচ ২৬ লাখ টাকার পুরোটাই আমি নিজে বহন করেছি। কলেজ পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এটা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জমি হস্তান্তর বিষয়ে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদ লাগে কি না আমার জানা নেই।

সর্বশেষ নিউজ