২৭, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

ভ্রাম্যমাণ মধু আহরণ করে সাবলম্বী প্রবাশ ফেরত মোক্তার

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামাড়া গ্ৰামের মট মালিয়াট মাঠের শ’শ’ বিঘা জমিতে ফুটেছে কচুরিপানা ও শাপলা ফুল।মাঠে পানি থাকায় ফুলে জমেছে বেশ রস। সেই রসালো ফুলে মৌমাছি ছেড়ে দিয়ে মোক্তার হোসেন নামের এক যুবক আহরণ করছে কেজি কেজি মধু।শুধু কুমারখালীর কচুরিপানা ও শাপলা ফুল নয়, বরং রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, গাইবাঁন্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন মৌসুমে সরিষাসহ নানানরকম ফুল থেকে মধু আহরণ করেন তিনি। আহরিত মধু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি স্বালম্বী হয়েছেন ৩৫ বছরের এই যুবক।

মোক্তার হোসেন জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী।

জানা যায়,প্রায় দশ বছর আগে মোক্তার জীবিকার তাগীতে পরিবার পরিজন ছেড়ে পারি জমিয়েছিল মালয়েশিয়ায়।সেখান ইলেক্ট্রিক কাজ করতেন তিনি।কিন্তু প্রবাশে জীবিকার্জনে ব্যর্থ হয়ে প্রায় দুই বছর দেশে ফিরে এসে মধু আহরণের প্রশিক্ষণ গ্রহন করে বেসিক থেকে।এরপর গাইবাঁন্ধার একটি ফার্ম থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজ উদ্যোগে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ মধু আহরণ।বছরে পাঁচ থেকে সাত মাস মধু আহরণ করে আট থেকে দশ লক্ষ টাকা আয় করেন তিনি।

এবিষয়ে মোক্তার হোসেন বলেন,অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বিদেশ গিয়েছিলাম।কিন্তু সেখানে জীবিকার্জনে সুবিধা করতে না পারায় বাড়ি ফিরে ছোট বেলার অভ্যাস মধু আহরণের জন্য বেসিক প্রশিক্ষণ গ্রহন করে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে ১৫০ টি বক্স আছে। প্রতি বক্স থেকে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৭০ কেজি মধু পাওয়া সংগ্রহ করি।তিনি আরো বলেন,বছরে আট থেকে দশ লক্ষ টাকার মধু বিক্রি করি।মৌমাছির খাবার ও অন্যান্য খরচ বাদ চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, উপজেলা চার হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। এবছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে এখনো পানি থাকায় শাপলা ও কচুরিপানার ফুল ফুটেছে।সেখান থেকে মোক্তার নামের এক যুবক মধু সংগ্রহ করার কথা শোনা গেছে। মৌমাছি পরাগায়নের ফলে যে কোন আবাদ বৃদ্ধি হয়। মৌ চাষ ফসলের জন্য উপকারী।

সর্বশেষ নিউজ