২৮, অক্টোবর, ২০২০, বুধবার

মুসলিমদের পক্ষে সিরিয়ায় নতুন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে তুরস্ক

সুন্নি মুসলিম গণহত্যার খলনায়ক ও সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের বোমা হামলা থেকে মুসলিমদের রক্ষা করতে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় লাতাকিয়া শহরের নিকটস্থ জাবাল আল-আকাদাদে তুরস্কের সেনাবাহিনী একটি নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে।

সোমবার (১০ আগষ্ট) সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ তথ্য প্রকাশ করেছে বলে মিডলইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে।

সিরিয়ায় তুরস্কের নতুন সেনা ঘাঁটিটি লাতাকিয়ার আশেপাশের জেলার দিকে আসাদ বাহিনীর আক্রমণকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে উত্তর সিরিয়ায় তুর্কি সেনা ঘাঁটির সঠিক সংখ্যা কতো তা জানা যায়নি।

তুরস্কের একটি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি সেনাবাহিনী সিরিয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সামরিক লিডারশীপ গঠন করেছে।

এই লিডারশীপের দায়িত্ব হলো, তুরস্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ার অঞ্চলগুলো পরিচালনা করা এবং আসাদ সরকার ও তার মিত্র ইরান এবং রাশিয়ান বাহিনীর আক্রমণ থেকে সিরিয়ার জনগণকে রক্ষা করা।

আরো পড়ুন: আগামী ১৫ বছরের মধ্যে রাশিয়ার জনসংখ্যার ৩০ ভাগই হবে মুসলিম !

আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ায় বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা। দিন দিন ইসলামের দিকে ঝুঁকছেন দেশটির মানুষ। আর তাই আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগই হবে মুসলিম।

এছাড়াও আগামী ৩০ বছরের মধ্যে সেদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ হবে মুসলিম। গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির নিম্নকক্ষে ‘স্টেট ডুমা’ আয়োজিত এক ফোরামে দেশটির অর্থোডক্স চার্চের প্রধান যাজক দিমিত্রি স্মির্নভ এসব তথ্য তুলে ধরেন। খবর দ্যা মস্কো টাইমসের।

এদিকে রাশিয়ার গ্র্যান্ড মুফতী রাভিল জাইনুদ্দিন বলেন, যে হারে মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে সেভাবে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছেনা রাশিয়ায়। আর এ কারণে নামাজ আদায়ে মসজিদের সংকট দেখা দিয়েছে। রাভিল জাইনুদ্দিনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ওই ফোরামে যাজক দিমিত্রি স্মির্নভ বলেন,

রাশিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির হার এভাবে অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে মুসলিমরাই হবে রাশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। নামাজ আদায়ে আরও অনেক মসজিদ নির্মাণ করতে হবে জানিয়ে গ্র্যান্ড মুফতী রাভিল জাইনুদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে রাশিয়ার মসজিদগুলোতে প্রায় ৩২ লাখ মুসলিম অংশগ্রহণ করেছে।

এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪৬.৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৪ মিলিয়ন , যা রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ।

রাশিয়ায় নর্থ কাউকাসুস ও তাতারাস্তান অঞ্চল দুটি দেশটির মুসলিম প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আর এই দুই প্রজাতন্ত্রে উচ্চহারে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার জনপরিসংখ্যান রিপোর্ট

আরো পড়ুন: এথেন্সে নামাজের স্থানগুলো বন্ধের নির্দেশ,বৈষম্যের শিকার মুসলিমরা !

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বিপুলসংখ্যক মুসলিম মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাজধানী এথেন্সেই কোনো মসজিদ নেই। মুসলিমরা গ্যারেসজসহ কোনো কোনো স্থানকে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করছিল।

কিন্তু ওইসব স্থানও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অথচ বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও নগরীতে একটি মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে না। এর ফলে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন সেখানকার বিপুলসংখ্যক মুসলিম। এ ব্যাপারে টিআরটি ওয়ার্ল্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রিসের এথেন্সে অনুমোদনহীন স্থানগুলোতে নামাজ না পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এসব স্থানের কোনো কোনোটিতে ১৯৮৯ সাল থেকে নামাজ চলত। ফলে মুসলিমরা মারাত্মক বিপদে পড়েছেন। গ্রিসের এক মুসলিম বলেছেন, এটি আমাদের নিজ বাড়ির মতো ছিল। যেখানে আমরা প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায় করেছি। এখন এটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আমরা তাহলে এখন কোথায় যাব? গ্রিস কর্তৃপক্ষ বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় অভিযোগ জানানোর পরেই বন্ধের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যপারে খালিদ বাদার নামে এক মুসলিম বলেন, গ্রিসে মুসলিমদের বেশিরভাগ জায়গায় অনুমতির জন্য যোগ্য হিসেবে ধরা হয় না।

আর আমরা আরো ভালো কোথাও যেতে চাইলে ব্যয়বহুল ভাড়া ও বাড়িওয়ালাদের বৈষম্যমূলক আচরণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন নির্দেশের কারণে এথেন্সের ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত স্থানগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বহু বছর ধরে গ্রিসে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও কাজ করছে। কিন্তু তারা বলছেন, অন্য জনগণের চোখে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ পায়। একজন মুসলিম বলেন, আমরা খুব খারাপ লাগে। কারণ গ্যারেজ বা গুদামে নামাজ পড়তে কারণ সেখানে মসজিদের সুবিধা নেই।

আমাদের অবশ্যই একটি মসজিদ থাকা প্রয়োজন। এভাবে বেসমেন্টে গোপনে নামাজ পড়াটা অসম্মানের। গ্রিসের মুসলিম এসোসিয়েশনের প্রধান নামিল ইগহান্দর বলেন, আমি রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বলে আশা করেছিলাম। আজ তারা মসজিদ না দিয়ে কবস্থানের মতো স্থান দিচ্ছেন।

আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্থান মসজিদকে বিদ্রুপে পরিণত করেছে। অথচ গ্রিস সর্বদা তার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যে গর্বিত করে এসেছে। কিন্তু এখানে দীর্ঘ সময় ধরে মুসলমানদের সাথে মর্যাদাহানিকর আচরণ করা হচ্ছে এবং তারা ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সর্বশেষ নিউজ