২৮, সেপ্টেম্বর, ২০২০, সোমবার

প্রাথমিকে ‘বৃত্তি’ বন্ধ, উপবৃত্তি চালু

করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) ও মাদরাসা বোর্ডের ইবতেদায়ী পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রাথমিকও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বলা হয়েছে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে মেধাবৃত্তি দিবে না সরকার। তবে উপবৃত্তি আগের মতোই চালু থাকবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উঠানো হবে। তবে উপবৃত্তি থাকবে কিন্তু বৃত্তিটা সরকার বন্ধ করবে।

এ বিষয়ে প্রথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম হোসেন বলেন, সমাপনী পরীক্ষার ভিত্তিতে যে বৃত্তি দেওয়া হয় সেটা করোনার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক সমাপনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসিক ২২৫ টাকা করে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষাটা বিদ্যালয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা করছি। এর আগে এটা কেন্দ্রভিত্তিক নেয়া হতো। এটা না করে স্ব স্ব বিদ্যালয়ে, যাতে করে জমায়েতটা বেশি না হয়, আমাদের ছেলেমেয়েরা আক্রান্ত না হয়, এরকম চিন্তাভাবনা আমরা করছি।’

নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেটি অনুমোদন দেন সেভাবেই হবে।।

২০০৯ সাল থেকে অন্য বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বসছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে চলতি বছর কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না হলেও সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়া হতে পারে। তবে অষ্টম শ্রেণি শেষে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সারা দেশে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সব অফিস-আদালত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়। শুরু হয় কঠোর ‘লকডাউন’। টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির পর গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছু্টির বাড়ানো হয় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

সর্বশেষ নিউজ