২৫, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার

ভারতের যে বিষয়গুলো নিয়ে অসন্তুষ্ট বাংলাদেশ

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার ঢাকা সফরের পর ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছে। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায়। এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই শ্রিংলার এই সফর। কিন্তু একাধিক মহল থেকে এই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু অ’স্বস্তি, কিছু অ’সঙ্গতি দুই দেশের মধ্যেই কিছুটা হলেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। আর এই টানাপোড়েন কাটানোর জন্যই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ঢাকা এসেছেন।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কিছু কিছু বিষয় নিয়ে যেমন বিচলিত ও উদ্বেগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে ভারতের কিছু কিছু আচরণেও বাংলাদেশ অখুশি এই রকম তথ্যও আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এই বিষয়গুলো নিয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে। একাধিকবার এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের থিংক ট্যাংকরা কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। এই ৩ মেয়াদে বাংলাদেশ ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছে। সবচেয়ে বড় যেটি দিয়েছে সেটি হল ভারতের নিরাপত্তা। বিচ্ছি’ন্নতাবাদীরা বাংলাদেশকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত এবং বাংলাদেশ থেকে গিয়ে তারা ভারতে বিচ্ছি’ন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড করত। এটি ভারতের নিরাপত্তার জন্য অনেক বড় হুম’কি ছিল।

শেখ হাসিনার একক নির্দেশে এবং একক অভিপ্রায়ে এই ধরণের বিচ্ছি’ন্নতাবাদীদের অপ’তৎপরতা বাংলাদেশের মাটি থেকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে তারা যখন আশ্রয় পাচ্ছে না তখন তাদের পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অ’সম্ভব হয়ে পড়েছে। গত ১১ বছরে ভারত বিচ্ছি’ন্নতাবাদীদের উৎ’পাত থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পেরেছে। এটি ভারতের নীতিনির্ধারকরা স্বীকার করেন, এটি শেখ হাসিনার অবদান। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে এই সময়ে ট্রানজিট সুবিধা, রেল সুবিধাসহ নানা রকম বাণিজ্যিক সুবিধার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু তারপরেও নিকটতম বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের কাছে যা প্রত্যাশা করেছিল তার অনেক কিছুই বাংলাদেশ পায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অখুশি হওয়ার যে বিষয়গুলো তারমধ্যে রয়েছে;

সীমান্তে অনা’কাঙ্ক্ষিত ঘটনা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশ সবসময় একটি শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ প্রত্যাশা করে। মাঝে মাঝে সীমান্তে এমন কিছু অন’ভিপ্রেত হ’ত্যার ঘটনা ঘটে, যেটা খুবই অ’মানবিক এবং বাংলাদেশের জন্য মেনে নেওয়া খুবই ক’ষ্টকর। এই বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছে, কিন্তু তারপরও সীমান্ত হ’ত্যা বন্ধ হয়নি। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাথা ব্যথার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যে নে’তিবাচক একটি রাজনৈতিক প্রচারণার সুযোগ হয়, সেটি উ’পেক্ষা করা যায় না।

তিস্তা প্রসঙ্গ ঝুলিয়ে রাখা

তিস্তার পানি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল মনমোহন সিং এর আমলে। এরপর নরেন্দ্র মোদী এলেন এবং দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি ক্ষমতায় এলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিস্তার ইস্যুতে কোন সমাধান হয়নি। বাংলাদেশের অনেক কূটনীতিক মনে করেন ভারত যদি আন্তরিকভাবে চাইত তাহলে তিস্তার পানি সমস্যার সমাধান করা তাদের জন্য খুব একটা কঠিন হতো না। তিস্তা ঝুলিয়ে রাখা বাংলাদেশ সরকারের জন্যও সম্মানজনক নয় এটি মনে করে বাংলাদেশের অনেক থিংক ট্যাংক। তবে এটাও বলা হয়, নরেন্দ্র মোদির সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাধ সেধেছেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশের সংখ্যা-লঘু নিয়ে অ’যাচিত তথ্য

ভারতের উ’গ্র কিছু প্রতিষ্ঠান এবং ভারতের কিছু কিছু সাম্প্রদা’য়িক গণমাধ্যম বাংলাদেশের সংখ্যা-লঘুদের নিয়ে নানা রকম অ’সত্য ও অ’যাচিত তথ্য দেয়। ভারতের কিছু কিছু ব্যক্তি যে ধরণের বক্তৃতা বিবৃতি প্রদান করেন বাংলাদেশের সংখ্যা-লঘুদের সম্পর্কে, তা শুধু মনগড়াই নয় রাষ্ট্রের জন্য অ’সম্মানজনকও বটে। আর এটি নিয়ে বাংলাদেশ বারবার বলেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যা-লঘুরা যেভাবে যত ভালো আছে সেটা এই পৃথিবীতে একটা অনন্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ গত ১১ বছরে সাম্প্রদা’য়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই ধরণের উ’স্কানিমূলক কথাবার্তা এবং বিবৃতি বাংলাদেশকে মাঝে মাঝে বি’ব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে।

বাংলাদেশের সকল ব্যবসায়ে ভারতীয়দের চোখ

বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের ভরা মৌসুম চলছে এবং বিভিন্ন রকম উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে। এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেক কাজেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই সমস্ত দরপত্রে অংশও নেয়। কিন্তু এই দরপত্রগুলোর জন্য যে যোগ্যতা থাকা দরকার, দেখা যায় যে ভারতীয় কোম্পানিগুলো এই ধরণের যোগ্যতা না থাকা স্বত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম মূল্য দিয়ে তারা কাজটি পেতে চায় এবং প্রাক যোগ্যতায় তারা উত্তীর্ণ না হলেও কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এই ধরণের মনোভাব কখনোই পেশাদারী নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশি কূটনৈতিক মহল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি টেন্ডার নিয়ে ভারত এবং চীনের প্রতিযোগিতা হয়েছিল। এই সমস্ত কাজে ভারতীয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করেছিল তাদের প্রাক যোগ্যতাই ছিল না। তবুও তারা এই সমস্ত কাজে জন্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অ’স্বস্তির কারণ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরবতা

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ৩ বছর পেরিয়ে গেল। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশি এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে এবং তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, সেই ভূমিকা তারা পালন করেনি। এ নিয়েও বাংলাদেশের মধ্যে এক ধরণের অ’স্বস্তি কাজ করে। বাংলাদেশের দিক থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়, বিভিন্ন ফোরামে আলোচনাও হয়। কিন্তু সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে ভারত কখনোই আগ্রহী নয় বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করেন। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ