২২, সেপ্টেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

পূর্ণ হলো সরকারের ২০ মাস, অপ্রতিরোধ্য শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ২০ মাস পূর্ণ করলো। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। আজ এই মন্ত্রিসভা তার ২০ মাস সময় পূর্ণ করলো। এই ২০ মাস আওয়ামী লীগের জন্যে ছিল চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে করোনা স’ঙ্কট শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগকে একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে তিন মেয়াদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় রকমের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে সরকার। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স’ঙ্কট, জনস্বাস্থ্যের সমস্যা, দুর্নীতি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্ব প্রাপ্তদের অ’যোগ্যতা, সীমাহীন ব্যর্থতা সরকারের অনেক পদক্ষেপকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে একজন মানুষের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, জনগণের মধ্যে একটা বিশ্বাস স্থাপন হয়েছে, একমাত্র তিনিই পারেন, তার নাম শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা যেন অ’প্রতিরোধ্য, অ’পরিহার্য এবং অ’নিবার্য হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের এখন প্রায় সব মানুষই বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ চালানোর মতো যোগ্য নেতা এই মুহুর্তে কেউ নেই। বাংলাদেশের সব মানুষই মোটামুটি বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনা যোগ্য নেতা এবং তিনি জনগণের কথা চিন্তা করেন। বাংলাদেশের মোটামুটি সব মানুষই মোটামুটি এটা ভাবেন, শেখ হাসিনা যেভাবে কাজ করেন সেভাবে যদি আর কয়েকজন মানুষ যারা সরকারে আছেন তারা করতেন তাহলে এই দেশের চেহারা পাল্টে যেত। বাংলাদেশের মোটামুটি সব মানুষই বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনার নি’র্লোভ এবং জনগণের কল্যাণ ছাড়া তার কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষই মনে করেন যে, শেখ হাসিনা জনগণের অধিকার এবং কল্যাণের প্রশ্নে কোন আপোস করেন না।

বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষই বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনাই একমাত্র যিনি নির্ভয়ে এবং নিঃসঙ্কোচে অ’ন্যায়কারী এবং অপরাধীদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন, কারো বিরু’দ্ধে কোন পক্ষপাত নেই। আর এই ভাবনাগুলো অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা। এই ভাবনাগুলো রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে অর্জিত নয়, বরং শেখ হাসিনার প্রতিটি পদক্ষেপ তার দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা এবং প্রজ্ঞার মাধ্যমে অর্জিত।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি অনেকগুলো ইতিবাচক এবং ভালো কাজ করেছিলেন। পার্বত্য শান্তিচুক্তি, গঙ্গার পানিচুক্তিসহ অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরেও সেই সময় শেখ হাসিনা পরিকল্পিত সমালোচনার স্বীকার হয়েছিলেন এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনাকে টার্গেট করেছিলেন ও শেখ হাসিনাকে সমালোচনার কেন্দ্রে এনেছিলেন।

২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা এবং সেই সময় থেকে তিনি আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা থেকে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় বেশ কয়েকজন জাতীয় নেতা ছিলেন এবং জনগণের সামনে বিকল্প ছিল, তুলনা করার সুযোগ ছিল। কে ভালো দেশ পরিচালনা করেন? শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া নাকি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ? শেখ হাসিনা তার কঠোর পরিশ্রম এবং একের পর এক সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে সবাইকে টপকে এক অনন্য উচ্চতায় উঠে গেছেন। যেখানে তাঁকে ধরাছোঁয়ার কেউ নেই।

বাংলাদেশের আজকে এটা একটি অনিবার্য বাস্তবতা, শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্র শেখ হাসিনাই। গত ২০ মাসে তিনি একাই যেন সবকিছুর চালিকাশক্তি। করোনা মোকাবেলা থেকে শুরু করে যে কোনো দুর্ঘটনা বা যে কোনো সিদ্ধান্তহীনতায় আলোর মশাল জ্বেলেছেন তিনি। যে কোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যে কোনো স’ঙ্কটে তিনি আলোকবর্তিকা হয়ে জনগণের সামনে এসেছেন।

এ কারণে আওয়ামী লীগের অনেক সমালোচনা, অনেক ব্যর্থতা, সরকারের অনেক জায়গায় দুর্নীতি-অ’নিয়মের অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের সামনে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই এবং জনগণ মনে করেন, শেখ হাসিনাই পারেন এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ