২২, সেপ্টেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

পর্তুগালকে দুর্দান্ত জয় এনে দিয়ে সেঞ্চুরি রোনালদোর

পায়ের ইনফেকশনের কারণে ছিলেন না আগের ম্যাচে, তবু তার দল জিতেছিল ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। সেই ম্যাচটিতে যদি খেলতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তাহলে যে ম্যাচের ফলাফল আরও বিধ্বংসী হতো- তার প্রমাণ দ্বিতীয় ম্যাচেই দিলেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার।

একে তো করোনা ঝুঁকি, তার ওপর নতুন করে দেখা দেয়া ইনফেকশন; ফলে খানিক সংশয়ই ছিল জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর মাঠে নামা নিয়ে। তিনি শুধু ফেরেননিই, জিতিয়েছেন দলকে, করেছেন জোড়া গোল। রোনালদোর জোড়া গোলে ভর করেই সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল।

টানা দুই জয়ে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা ধরে রাখার পথে ভালোভাবেই এগুচ্ছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপে ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও সুইডেনের মতো দল থাকায় আপাতদৃষ্টিতে এটিই টুর্নামেন্টের ডেথ গ্রুপ। এই গ্রুপে খেলেই দুই ম্যাচে মোট ৬ গোল করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে ফার্নান্দো সান্তোসের শিষ্যরা।

সুইডেনের বিপক্ষে সবশেষ যেবার খেলেছিল পর্তুগাল, সে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে দলকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছিলেন রোনালদো। একই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছিল মঙ্গলবার রাতের ম্যাচেও। তবে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও, জোড়া গোলে বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের সেঞ্চুরি করেছেন রোনালদো।

প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গিয়ে রোনালদোর মতোই উজ্জ্বল ছিল পুরো পর্তুগাল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত পর্তুগিজদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল সুইডেনের রক্ষণভাগ। ব্রুনো ফার্নান্দেস, হোয়াও ফেলিক্স, বার্নার্দো সিলভারা কিছু সুযোগ হাতছাড়া না করলে অন্তত প্রথম ম্যাচের মতো এক হালি গোল দিতে পারত পর্তুগাল।

আক্রমণের পসরা সাজিয়েও যখন গোলের দেখা পাচ্ছিল না পর্তুগাল, তখন যেন তাদের উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন সুইডিশ মিডফিল্ডার গুস্তাভ বেনসন। ম্যাচের ৪৪ মিনিটের সময় ডি-বক্সের বাইরেই পেছন থেকে তিনি ফাউল করেন হোয়াও মৌতিনহোকে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল।

লক্ষ্য থেকে প্রায় ২৫ গজ দূরে পাওয়া এই ফ্রি-কিকটিকেই নিজের সেঞ্চুরির যথাযথ সুযোগ হিসেবে আকড়ে ধরেন রোনালদো। রক্ষণ-প্রাচীরের ওপর দিয়ে বাঁকানো ফ্রি-কিকটি সোজা জড়িয়ে যায় জালে। যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর শততম গোল। তার আগে এই কীর্তি করতে পেরেছেন শুধুমাত্র ইরানের আলি দাই।

এক গোল করেই দমে যাওয়ার ছিলেন রোনালদো। তার মধ্যে যে গোলের ক্ষুধা এখনও আগের মতোই, সেটি প্রমাণ করেছেন দ্বিতীয়ার্ধেও। যথারীতি এই অর্ধেও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন অন্যান্যরা। তবে ৭২ মিনিটের সময় ডি-বক্সের মুখ থেকে কোনাকুনি শটে ম্যাচের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। এ দুই গোলেই বিজয়ীর হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে নেশনস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

সর্বশেষ নিউজ