২৫, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শুক্রবার

বার্তোমেউ মেসির এক কথায় গদি নড়ে গেছে

সব শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বার্সায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সেই সাক্ষাৎকারেই জানিয়ে দেন মেসি। তার আগে ক্লাবটির ওপর দিয়ে কী ঝড়টাই না বয়ে গেল! চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর বার্সা ছাড়ার কথা জানান দলের সবচেয়ে বড় তারকা। বেঁকে বসেন বার্সা সভাপতি।

মেসি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যেতে পারবেন না, বাই আউট ক্লজের ৭০ কোটি ইউরো দিয়ে যেতে হবে—জানিয়ে দেন বার্তোমেউ। এদিকে মেসির দাবি ছিল, চুক্তির শর্ত মেনেই তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যেতে চান। কিন্তু বার্সা জানিয়ে দেয়, যে নিয়ম মেনে তাঁর ক্লাব ছাড়ার কথা ছিল সেটি মানেননি মেসি। এরপরই সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, বার্সা সভাপতি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।

মেসির কথায়, ‘আমি ক্লাব ও সভাপতিকে বলেছিলাম আমি যেতে চাই। পুরো বছর জুড়েই আমি তাঁকে এটি বলে এসেছি।’ কিন্তু মৌসুমের মাঝে যতবার বার্সা সভাপতিকে নিজের ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন মেসি, ততবারই নাকি বার্তোমেউ তাঁকে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে গেছেন। কিন্তু মৌসুম শেষে যখন মেসি আনুষ্ঠানিক ভাবে সিদ্ধান্ত জানালেন, তখন নিজের কথা পাল্টে ফেলেন বার্তোমেউ। আর্জেন্টাইন তারকার এমন মন্তব্যের পর চাপ বেড়েছে বার্তোমেউয়ের ওপর। জর্দি ফারে তাঁর বিরুদ্ধে ক্লাবের মধ্যে অনাস্থা ভোট আদায়ের কার্যক্রমে উঠে পড়ে লেগেছেন। এতে বছরের শেষ নাগাদ সভাপতি নির্বাচনের পথ ত্বরান্বিত হব

আর্থিকভাবে বেশ বাজে অবস্থার মধ্যে রয়েছে বার্সেলোনা। ফারে মনে করেন বার্তোমেউকে নিয়ে মেসির সাম্প্রতিক মন্তব্য ক্লাবের সংস্কারের পথ আরও প্রসারিত করবে, ‘মেসি বলেছেন কোনো পরিকল্পনা নেই এবং বোর্ড তাকে মিথ্যা বলেছে। সব “সোসিওস” (সদস্য) এর এই কার্যক্রমে সই করা উচিত। মেসির মন্তব্যের পর অনাস্থা ভোটের কার্যক্রম দ্বিগুণ গতি পেয়েছে। সে অন্য পথও বেছে নিতে পারত কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, সে যাচ্ছে না এবং চুক্তি নবায়নে তাকে রাজি করানো সম্ভব বলে মনে করি।’

বার্তোমেউ প্রশাসনের অধীনে বার্সার আর্থিক অবস্থার একটি উদাহরণও দিয়েছেন ফারে, ‘আর্থিকভাবে খুব বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বার্সা। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ ছাড়াও আরও অনেক দায় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রিজমানকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে, ২০২১ সালের আগে তা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু করবে না বার্সা। আশা করি ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ভোট আদায় করা হয়ে যাবে। সেটা হলে ৩০ দিনের মধ্যে গণভোট আর তার ফল বার্তোমেউয়ের বিরুদ্ধে গেলে ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন হতে পারে।

সর্বশেষ নিউজ