২২, সেপ্টেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

১৯৫ কোটি টাকা পাচা’র করেছেন সম্রাট, সিআইডির রিপোর্ট

অ’বৈধভাবে আয় করা ১৯৫ কোটি টাকা হুন্ডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচা’র করেছেন ক্যাসিনো বিরো’ধী অভিয়ানে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগের বহি’ষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। অর্থ পাচা’রের এই কাজে তাকে সহায়তা করেছেন এনামুল হক আরমান। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে আসার পর দু’জনকে আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে সিআইডি।

সিআইডির অনুসন্ধান বলছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে চাঁদা’বাজিসহ অ’বৈধ বিভিন্ন উপায়ে বিপুল অর্থ আয় করেন সম্রাট। বিপুল এই অর্থের মধ্যে দুই দেশে পাচা’র করেছেন ১৯৫ কোটি টাকা। হুন্ডিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এনামুল হক আরমানের সহযোগিতায় তিনি এই অর্থ বিদেশে পাচা’র করেন।

সম্রাটের বিদেশ ভ্রমণের তথ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থাটি। তাদের হিসেব অনুযায়ী, সম্রাট ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩৫ বার সিঙ্গাপুর গিয়েছেন। এছাড়া ৩ বার মালয়েশিয়া, ২ বার দুবাই এবং ১ বার হংকং গিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনোর আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস-এ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন গ্যাম্বলাররা। কিন্তু সেখানেও সম্রাট ভিআইপি গ্যাম্বলার হিসেবে পরিচিত। প্রথম সারির গ্যাম্বলার হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে।

এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’ যোগে। সিঙ্গাপুরে গ্যাম্বলিংয়ের উদ্দেশ্যে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও গ্যাম্বলার খোরশেদ আলম।

সম্রাটের পাশাপাশি এনামুল হক আরমানের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সিআইডির। তারা বলছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এনামুল হক আরমান ২৩ বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন। তবে তার পাসপোর্টে মালয়েশিয়া এবং দুবাই ভ্রমণের কোনো ভিসা নেই।

সম্রাট ও এনামুল হক আরমানের বিষয়ে অনুসন্ধানটি করেছেন সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইমের উপ-পরিদর্শক মো. রাশেদুর রহমান। তিনি জানান, অনুসন্ধানে সম্রাটের অর্থ পাচা’রের বিষয়টি উঠে এসেছে। ৫ বছরে তিনি বিভিন্ন অ’বৈধ পন্থায় এই অর্থ আয় করেছেন।

সিআইডির এএসপি (মিডিয়া) মো. জিসনুল হক বলেন, অ’বৈধভাবে অর্থ উপার্জন এবং তা বিদেশের পাচা’র করেছেন সম্রাট। এ ঘটনার তার বিরু’দ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছ।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অ’বৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপরই ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দুজনই অ’বৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্রাটের অ’বৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

সম্রাটের বড় ভাই বাদল চৌধুরী ঢাকায় তার ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ছোট ভাই রাশেদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। তার বাবা অনেক আগেই মা’রা গেছেন। মা বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। ক্যাসিনোবিরো’ধী অভিযানের পর সম্রাটের পরিবারের সবাই গা ঢাকা দেন।

এর আগে, গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদেরকে যুবলীগ থেকে বহি’ষ্কার করা হয়। আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার গ্যাম্বলাররদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। ক্যাসিনো খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরেও যেতেন গ্যাম্বলিংয়ের উদ্দেশ্যে।

সর্বশেষ নিউজ