২৬, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শনিবার

কুমারখালীতে পশুহাট, কৃষিজমিসহ পানিবন্ধী শতাধিক পরিবার

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৮ নং যদুবয়বা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী যদুবয়বা পশুহাট ও হাটের পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা ধানীজমি এবং ৩নং ওয়ার্ড জোতমোড়া ও ৫ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ যদুবয়বা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানি জমে পানিবন্ধী জীবন- যাপন করছে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি খালের সংস্কার না করা, পানি নিষ্কাশনের পথে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, যদুবয়বা পশুহাট সংলগ্ন লালন বাজার টু পান্টি গ্রামীণ সড়কের পাশ দিয়ে ছিল পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি খাল।ওই খাল দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বৃষ্টির পানি পাশের বিলে প্রবাহিত হত।কিন্তু ৬ থেকে ৭ বছর যাবৎ খাল সংস্কার না করা এবং খাল দখল করে স্থানীয়দের অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় বছরের প্রায় তিন থেকে চার মাস পানিবন্ধী জীবন-যাপন করছে শতাধিক পরিবার। একটু বৃষ্টি হলেই তিন থেকে চার ফুট পানি জমে।এতে গৃহবন্দী হয়ে পড়ে কর্মজীবী মানুষ গুলো। রান্নাঘরে পানি উঠায় জ্বলেনা চুলা।গৃহপালিত পশুপাখি ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের দুঃখের সীমা নেই।সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে রাতে ঘুম হয়না।পয়নিস্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় বেড়ে যায় পানিবাহিত রোগ। নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে পোহাতে ভোগান্তির শেষ নেই।

অপরদিকে ত্রিশ লক্ষ টাকার ঐতিহ্যবাহী পশুহাট বছরের তিন থেকে চার মাস থাকে হাটু পানির নিচে।ফলে সপ্তাহে অতিরিক্ত আরো পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া জমিতে চালানো হয় হাট।এতে প্রতিবছরই হাটের খরচ বেড়ে যায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এছাড়াও পানি জমে থাকায় পশুহাটের পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা ধানীজমির ফসল নষ্ট হচ্ছে প্রতিবছর।

এবিষয়ে জোতমোড়া গ্রামের দিনমজুর মনছের শেখের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, ঘরের মধ্যে বৃষ্টিতে জমা হাটু পানি।রান্নার চুলা জ্বলেনা। বাড়ির বাইরে যাওয়া আসা করা যায়না।সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঘুম হয়না।পানির মধ্যে খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি। একই গ্রামের নুরুল আলম বলেন, আমি একজন অটো ভ্যান চালক।বাড়িতে হাটু পানি হওয়ায় ভ্যান আনা নেওয়া করা যায়না।বছরের ৩ থেকে ৪ মাস এমন কষ্ট। দক্ষিণ যদুবয়বা গ্রামের আক্তার বলেন, পানি বের হওয়ার রাস্তায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় আমাদের এমন ভোগান্তি।ঘরে বাইরে সব জায়গায় পানি।ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও গরু বাছুর নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কুমারখালী সকরাকি কলেজের একাদশ শ্রেনিতে পড়ুয়া ছাত্রী রিতা খাতুন বলেন, প্রতিবছরই এমন সমস্যা হয়।একটু বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি।রোগেশোকে জর্জায়িত আমাদের জীবন।

এবিষয়ে ঐহিত্যবাহী যদুবয়বা পশুহাটের ইজারাদার শাজাহান হোসেন বাবু বলেন,ত্রিশ লক্ষ টাকা দিয়ে হাট ডেকেছি।সেই হাটে বৃষ্টি হলেই তিন চার ফুট পানি জমে।প্রতি বছরেই তিন থেকে চার মাস এমন বৃষ্টির পানি জমে থাকে হাটে।সেই সময় হাট চালাতে অন্য জমি ভাতা নেওয়া হয়।এতে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ গুণতে হয়।

কৃষক শাজাহান আলী খান বলেন,আমার দুই বিঘাসহ এখানে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা ধানি জমি রয়েছে।আমন বোরো সব ধানই এখানে চাষ করা হয়।কিন্তু বৃষ্টির পানি বের হবার রাস্তা না থাকায় মাজা সমান পানি জমে প্রতিবছরই ফসলের ক্ষতি হয়।

এবিষয়ে জানতে যদুবয়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল আলমকে বার বার ফোন দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, যদুবয়বা পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

সর্বশেষ নিউজ