২৬, সেপ্টেম্বর, ২০২০, শনিবার

ভারত নির্ভরতা নয়: ৫টি দেশ থেকে আসছে ১১ হাজার টন পেঁয়াজ

ভারত পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিকল্প দেশ থেকে পেয়াজ আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এখন পর্যন্ত ৫টি দেশ থেকে মোট ১১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য অনুমোদন (পারমিট) নিয়েছেন দেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট কোয়ারান্টাইন স্টেশন (সমুদ্র বন্দর)-এর উপ-পরিচালক ড. মো. আসাদুজ্জামান বুলবুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ভারতের ওপর নির্ভর না হয়ে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ থেকে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য পারমিট সংগ্রহ করা শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট কোয়ারান্টাইন স্টেশন জানায়, সারাদেশের ২৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চীন, মিয়ানমার, পাকিস্থান, মিশর ও তুরস্ক থেকে মোট ১০ হাজার ৯১ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন নিয়েছে।

ড. আসাদুজ্জামান জানান, তারাও দ্রুততার সাথে পারমিট সরবরাহ করার চেষ্টা করেছেন যাতে আটকে থাকা আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত ছাড়িয়ে আনা যায়।

সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে ইতোমধ্যে মিশর ও তুরস্ক থেকে ইতিমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমদানি করা পেঁয়াজের চালান আগামী মাসের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের ঘোষণার পর চট্টগ্রামের পাইকারী ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাতুনগঞ্জ বাজারের পাইকারী বিক্রেতারা জানান, সোমবার ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার দাম আরও বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে সোমবার পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকার আশেপাশে থাকলেও মঙ্গলবার বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। খাতুনগঞ্জ বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির জন্য কম সরবরাহকে দায়ী করেছেন। সোমবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষে’ধাজ্ঞা জারি করে ভারত। এরপর থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম।

এদিকে, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি সচল রাখতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পেঁয়াজ রপ্তানিতে ঘোষিত নিষে’ধাজ্ঞা প্র’ত্যাহারের জন্য দিল্লিকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। এ বিষয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করছে বলে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নিষে’ধাজ্ঞার বিষয়ে জানার পরপরই নয়াদিল্লিতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

শাহরিয়ার বলেন, এ ধরনের নিষে’ধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভারত বাংলাদেশকে অবহিত করবে এমন একটি অলিখিত সমঝোতা আছে। একই বিষয়ে ভারত আগে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষে’ধাজ্ঞা জারি করার প্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে এরকমই কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের মতো এবারও বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনে ধ্ব’স নামে। যার প্রভাবে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষে’ধাজ্ঞা জারি করে ভারত।

সর্বশেষ নিউজ