২৪, অক্টোবর, ২০২০, শনিবার

শীতে যেসব কারণে বাড়বে করোনা, মোকাবিলায় যা যা করণীয়

বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশেও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাসের পর মাস করোনা সংক্রমণের একই অচলাবস্থার মধ্যেও মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। সরকার চাইছে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে। এজন্য কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে মূল কথাটি হচ্ছে- কবে যাচ্ছে করোনা? কবে করোনামুক্ত হচ্ছে দেশ? এই প্রশ্ন এখন দেশের প্রতিটি মানুষের। তারপরও বেঁচে থাকার তাগিতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ঘর ছাড়ছে মানুষ।

একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। আমি কাউকে বাদ দিতে পারব না। সেজন্য হয়তো আমরা এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। সামনে শীত, করোনা পরিস্থিতি আরেকটু হয়তো খারাপের দিকে যেতে পারে। তবুও আমাদের এখন থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শীতকালে কেন বাড়তে পারে- এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক ও অণুজীব বিশেষজ্ঞ ড. সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কিন্তু গত বছর শুরু হয়েছিল শীতকালেই, ডিসেম্বর মাসে। তখন কিন্তু এ ভাইরাস শীতপ্রধান দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। যে কারণে গোটা বিশ্বেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীত এলে ভাইরাসটির বিস্তার বাড়তে পারে।’

এরইমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, শীতে করোনা ভাইরাস মহামারি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে শীতের আগে থেকেই উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে, সহজে সংক্রমিত করতে পারে বা নিজের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে, শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ। এ কারণেই ধারণা করা হচ্ছে যে, শীতকালে এ ভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে।’

এছাড়াও শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় হাঁচি, কাশি দেয়া হলে বাতাসে জীবাণুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলো অনেকক্ষণ ধরে ভেসে থাকে। গরমের সময় সেটা যখন দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু শীতে অনেকক্ষণ ধরে বাতাসে থাকে। ফলে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

নভেল করোনা ভাইরাসের জীবাণুর ক্ষেত্রে যে নিউক্লিয় এনভেলাপ থাকে, অর্থাৎ ভাইরাসের বাইরে যে আবরণ থাকে, যেটি জীবাণুর জেনেটিক কনাগুলোকে ঘিরে রাখে, লিপিড মেমব্রেন বলা হয় সেটাকে। এই আবরণটা তৈলাক্ত ধরনের। শীতকালীন পরিবেশে সেটা টিকে থাকতে পারে দীর্ঘক্ষণ।

এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের জন্য বিশেষ করে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশেষ অনুকূল বলে দেখা গেছে। সূর্যের আলোয় যে অতিবেগুনি রশ্মি থাকে তা ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। কিন্তু শীতে অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণও কম থাকে। কিন্তু শীতকালে করোনা ভাইরাসের বিস্তার বেশি হয়, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ এখনও মেলেনি।

তবে শীতে করোনার বিস্তার বাড়লেও তা মোকাবিলায় কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ বাড়লেও নিজেদের সুরক্ষায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিকধি মেনে চলা আবশ্যক। হাত ধোয়া, হাঁচি, কাশির সময় শিষ্টাচার রক্ষা করা নিয়ে প্রতিদিনের সরকারি স্বাস্থ্য বুলেটিনে যে পরামর্শগুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলোও আরও গুরুত্বসহকারে পালন করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। নিজেকে সুস্থ রাখতে পাশের ও প্রতিবেশীদেরও করোনা মোকাবিলার বিষয়ে অধিক সচেতন করে তুলেতে হবে।

সর্বশেষ নিউজ