২৪, অক্টোবর, ২০২০, শনিবার

করোনা প্রতিরোধে নতুন ধরনের কিছু কৌশল জরুরি

অফিস আদালত শপিংমল রেস্তোরাঁ সব খুলে দিয়ে যখন মানুষ ‘স্বাভাবিক’ জীবনে অভ্যস্ত হতে চেষ্টা করছেন, তখন মাস্ক বা সামাজিক দূরত্বের পাশাপাশি নতুন ধরনের কিছু কৌশল নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যেষ্ঠরা যেহেতু করোনা আক্রান্তের শঙ্কায় বেশি থাকেন, সেহেতু তাদের বিষয়ে পরিবারের তরুণদের বাড়তি সতর্কতা দরকার এবং সেটি মানা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টি কঠোর মনিটরিংয়ের ভেতর আনতে হবে বলে মত দিচ্ছেন তারা। মহামারি পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করার মুহূর্তে এর কোনও বিকল্প নেই।

বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন নাইমুর রহমান। বাসায় তার কর্মজীবী স্ত্রী, দুই বছরের কন্যা ও ৬৫ বছর বয়স্ক বাবা। সকালে অফিসে বেরিয়ে যান এই দম্পতি। বিকালে অফিস থেকে ফিরে নিজেদের মতো করে পরিচ্ছন্ন হয়ে, পোশাক ধুয়ে দিয়ে, তারপর অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারপরও অপরাধী লাগে তাদের।

নাইমুর বলেন, আমি ফিরে এসে যতটা সম্ভব ক্লিন হচ্ছি, কিন্তু বাচ্চা বা বাবার সঙ্গে একেবারেই কনটাক্টে যাবো না তা কী করে হয়? এটা তো এক দুদিনের বিষয় না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, বাসার বাইরে যারা কাজে যাচ্ছেন তারা বাইরের এই ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতেও কী কী মেনে চলবেন সেটার সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ করে দেওয়া জরুরি। বাসায় শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ যারা আছেন, তাদের প্রতি তারা কী ধরনের আচরণ করবেন সেটার কৌশল নির্ধারণ করে দিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণের কোনও সম্ভাবনা নেই।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৬ জন। এনিয়ে মোট ৪ হাজার ৮৫৯ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৪৩ জন এবং এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ৪১২ জন সুস্থ হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫৯৩ জন এবং এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ জন শনাক্ত হয়েছেন।

নতুন পরিস্থিতিতে কিছু নতুন কৌশল নির্ধারণ করে জীবন যাপন করতেই হবে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রিভেনটিভ মেডিসিন চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী বলেন, যত কষ্টই হোক, যারা বাসার বাইরে বের হচ্ছেন, তারা যেন বাসার বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এবং সেটি যে তিনি করছেন, এটা নিশ্চিত করতে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। করোনা পরীক্ষায় নতুন করে আবারও উৎসাহিত করতে হবে।

নতুন সময়ে কীভাবে চলতে হবে সে বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অবশ্যই সেটার মডেলদের দিয়ে না করিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীদের দিয়ে করাতে হবে উল্লেখ করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, যেটাকে নতুন স্বাভাবিক বলা হচ্ছে সেটা তো আসলে স্বাভাবিক না। এই তথাকথিত ‘স্বাভাবিকে’ কী কৌশল অবলম্বন করতে হবে তার প্রচার প্রচারণা দরকার। সাধারণ মানুষকে সেটা মানতে উৎসাহিত করতে হবে। আর সেটা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দিয়ে প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও মডেলকে ব্যবহার না।

জাতীয় পর্যায়ে যারা অনুকরণীয় তাদেরই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দূরত্ব বা যথাযথ মাস্ক পরিধানের বিষয় সঠিকভাবে পালন করছেন না, তাদের ছবি গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা এটা করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টা হালকা হয়ে যায়। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত হার্ড ইমিউনিটি ডেভলপ করতে না পারছি, ন্যাচারাল বা আর্টিফিসিয়াল হোক, ততক্ষণ পযন্ত স্বাস্থ্যের বিধিবিধান মেনে চলার বিকল্প নেই।

সর্বশেষ নিউজ