২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার

২২৭ কোটি টাকা বিদেশে পাচা’র করেছেন যুবলীগ নেতা সম্রাট

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ২২৭ কোটি টাকা পাচা’র করেছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে গ্যাম্বলারদের কাছে পরিচিত সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। দেশে তার তেমন কোন সম্পদ পাওয়া না গেলেও বিদেশে এই বিপুল অর্থ পাচা’র করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। পাচা’রের অর্থের অধিকাংশই ব্যবহৃত হয় সেসব দেশের ক্যাসিনোতো।

দুদক সূত্র বলছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সম্রাট সিঙ্গাপুরে পাচা’র করেছেন ৩ কোটি ৬৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার বা ২২৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একই সময়ে মালয়েশিয়ায় পাচা’র করেছেন ২ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ৪০ লাখ টাকার বেশি।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বরে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরু’দ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তারই অনুসন্ধানে এসব তথ্য সামনে আসে।

সম্রাটের বিদেশ ভ্রমণের তথ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। তাদের হিসেব অনুযায়ী, সম্রাট ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩৫ বার সিঙ্গাপুর গিয়েছেন। এছাড়া ৩ বার মালয়েশিয়া, ২ বার দুবাই এবং ১ বার হংকং গিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনোর আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস-এ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন গ্যাম্বলাররা। কিন্তু সেখানেও সম্রাট ভিআইপি গ্যাম্বলার হিসেবে পরিচিত। প্রথম সারির গ্যাম্বলার হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে।

এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’ যোগে। সিঙ্গাপুরে গ্যাম্বলিংয়ের উদ্দেশ্যে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও গ্যাম্বলার খোরশেদ আলম।

সম্রাটের পাশাপাশি এনামুল হক আরমানের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সিআইডির। তারা বলছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এনামুল হক আরমান ২৩ বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন। তবে তার পাসপোর্টে মালয়েশিয়া এবং দুবাই ভ্রমণের কোনো ভিসা নেই।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরু’দ্ধে ঢাকা মহানগরীতে চাঁদা’বাজি, টেন্ডারবাজি, মা’দক ব্যবসা ও অ’বৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডির এএসপি (মিডিয়া) মো. জিসনুল হক বলেন, অ’বৈধভাবে অর্থ উপার্জন এবং তা বিদেশের পাচা’র করেছেন সম্রাট। এ ঘটনার তার বিরু’দ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অ’বৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপরই ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দুজনই অ’বৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্রাটের অ’বৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

সম্রাটের বড় ভাই বাদল চৌধুরী ঢাকায় তার ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ছোট ভাই রাশেদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। তার বাবা অনেক আগেই মা’রা গেছেন। মা বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। ক্যাসিনোবিরো’ধী অভিযানের পর সম্রাটের পরিবারের সবাই গা ঢাকা দেন।

এর আগে, গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদেরকে যুবলীগ থেকে বহি’ষ্কার করা হয়। আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার গ্যাম্বলাররদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। ক্যাসিনো খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরেও যেতেন গ্যাম্বলিংয়ের উদ্দেশ্যে।

সর্বশেষ নিউজ