২০, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

‘মেয়েটির সঙ্গে মাত্র একবারই কথা হয়েছিল’, সাফাই নুরুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নূরুর বিরু’দ্ধে ধ** র অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার নুরু জানান, চরিত্র হ’ননের জন্য আমার বিরু’দ্ধে এমন মামলা হয়েছে। এটা সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার কারসাজি। আমাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে এই মামলা। মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা।

নুরু বলেন, এগুলো আসলে আমাকে হে’য় এবং বিত’র্কিত করার জন্য। এটা তাদেরই একটা গোয়েন্দা সংস্থার কারসাজি। এই মেয়ের সাথে আমার মাত্র একবার কথা হয়েছে, সেখানে কীভাবে সম্ভব? এখানে ধ** মামলায় আমার নাম কেন আসবে? আসলে নুরুকে এরকম একটা কিছুতে প্যাঁচালে এটার একটা ভ্যালু আছে। মিডিয়াতে একটা শিরোনাম হবে এই জন্যে। পুরোটাই রাজনীতি কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলাটি করেছেন। মামলায় নুরুসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লালবাগ থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নুরুর বিরু’দ্ধে একটি ধ** মামলা করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।

৬৩টি আইডি এবং পেজ পরিচালনা করেন কোটা নুরু!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতা নুরুল হক নুরুর নামে ফেসবুকে ৬৩টি আইডি ও পেজ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (আইডি) ৩১টি এবং পেজ ৩২টি।

সম্প্রতি ডয়েচে ভেলের এক অনুষ্ঠানের ভিডিও সম্পাদনা করে একাত্তরের রাজাকার নূর হোসেনের পুত্র শিবির নেতা ইলিয়াস হোসেনের ভিডিও কন্টেন্ট লাগিয়ে দেয়। ভিডিওটি ইউটিউবে ভাইরাল হয়। সেই ভুয়া ভিডিওটি শেয়ার করা হয় ‘ভিপি নুরুল হক নুর’ নামে একটি পেজ থেকে।

তারপর ফেসবুকে নুরুর নামে খুঁজলে তার ছবি সংবলিত ৩১টি আইডি, বাংলা নামে ১৯টি পেজ এবং ইংরেজিতে ১৩টিসহ মোট ৬৩টি আইডি ও পেজর সন্ধান পাওয়া যায়। তবে কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুর দাবি, ফেসবুকে তার দুটি ছাড়া আর কোনো পেজ নেই। যদিও এই দুটির বাইরে তার নামে একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে।

এ বিষয়ে নুরু বলেন, ফেসবুকে আমার কোনো আইডি নেই। শুধুমাত্র দুটি পেজ আছে। দুটি পেজ একটি আরেকটির বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া আমার আর কোনো আইডি বা পেজ নেই।

নুরুর দাবি অনুযায়ী ২টি পেজ বাদ দিলে বাকি ৬১টি আইডি ও পেজ তাহলে কে চালায়- এমন প্রশ্নের জবাবে নুরু বলেন, কয়েকদিন আগে আমার নামে ভুয়া একটি পেজ থেকে ভিডিও শেয়ার দেওয়া হয়। এতে আমি চরমভাবে বি’ব্রত হই। এর আগেও আমার নামে বিভিন্ন আইডি খুলে নানা রকম ‘ফালতু’ পোস্ট করার অভিযোগ পাওয়ার পর আমি এসব আইডি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সুরহা পায়নি।

ভেরিফায়েড আইডির মালিকানা অ’স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার আগে একটি আইডি ছিল। সেটি কে বা কারা হ্যাক করে নেয়। ওই আইডির সঙ্গে পেজ সংযুক্ত ছিল। হ্যাকাররা ওই পেজ পরবর্তীতে ভেরিফায়েড করে নেয়।

যদি বাকি ৬১টি আইডি এবং পেজের ব্যাপারে নুরুর কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তাহলে কোটা বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপগুলোতে, যেখানে নুরু নিজে এবং ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পষিদের নেতারা এডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সেই গ্রুপগুলোতে ওই ৬১টি আইডি এবং পেজ থেকে দেওয়া পোস্ট এপ্রুভ হয় কী করে- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সর্বশেষ নিউজ