২০, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

শরীয়তপুরে সাবেক যুবলীগের নেতা ও স্বাস্থ্য সহকারি টিটুর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বাস্থ্য সহকারী ইলিয়াস কাঞ্চন টিটু হত্যার বিচারের দাবিতে তার নিজ গ্রামে হাজার হাজার নারী পুরুষ নিয়ে বৃষ্টি উপক্ষে করে বিক্ষোভ মিছিল ও ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করা হয়েছে। শুক্রার বিকাল ৪ টায় নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ঢাকেরহাটি গ্রামে মৃত্য টিটুর সরদারে বাসার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

এর পরে বৃষ্টি উপপেক্ষা করে ঢাকেরহাটি গ্রামবাসী ঘন্টা ব্যাপী মানব-বন্ধন করেন।
এদিকে ইলিয়ছ কাঞ্চন টিটুর আপন ছোটো ভাই রাজিব সরদার অভিযোগ করে বলেন,এই চিহিৃত হত্যাকান্ডের সাথে যারা জরিত তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন,এমন কি এই হত্যাকান্ড থেকে রক্ষাপেত তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে বরং উল্টো আমাদের ফাসানোর চেষ্টা করছেন। তিনি আরো বলেন আমার বাবা ডাঃ আঃ জলীল(সাবেক চেয়ারম্যান)তিনি পল্লী চিকিৎসক, মেম্বার, ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ নাগেরপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, সহসভাপতি, নাগেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক,ইউ পি চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের স্ব্যাস্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে আপনাদের সেবা প্রদান করে আসছেন , আমরা তার সন্তান হিসাবে তাকে যতটুকু চিনি তারচেয়ে আপনারা আমার বাবা কে বেশি চিনেন এবং জানেন। আমার মনে হয় এরপর আমার পরিবারের আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই কিন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় আমার ভাইয়ের হত্যাকান্ড নিয়ে আমরা নাকি রাজনীতি করছি, সেই বিচার আমি নাগেরপাড়ার জনগণের কাছে দিচ্ছি।

এসময় ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর বাবা আব্দুল জলিল সরদার, টিটুর স্ত্রী মিলি বেগম ও ছেলে অনিক, নিহত টিটুর মা রাশিদা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলেকে যারা হত্যা করে আমার বুক খালি করেছে- তাদের সর্বোচ্চ ফাঁসি দাবি করছি।
নিহত টিটুর বাবা আব্দুল জলিল সরদার বলেন, আমার প্রতিপক্ষ মোজাম্মেল খান ও তার লোকজন আমার ছেলের হত্যার সাথে জড়িত তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নাহিম রাজ্জাক এম পি মহোদয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে বিনীত নিবেদন করছি আমার ছেলের চিহ্নিত হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের আওতায় আনা হোক। সেই সাথে আমার পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়া হোক।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ঢাকেরহাটি গ্রামে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাগেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সরদারের ছেলে স্বাস্থ্যকর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন টিটু (৩৯) তার ঘরের খাটের সঙ্গে পা ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী।

পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর গোসাইরহাট থানায় একটি অপমত্যু মামলা হয়। পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গোসাইরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোটকাচনা গ্রামের মৃত মান্নান খানের ছেলে মোজাম্মেল খান, জাহিদ খান, ঢাকেরহাট গ্রামের মোতালেব বেপারী, শহিদুল সরদার, রফিক সরদারসহ ১৩ জনকে ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

ওইদিন রাতে মামলার আসামি জাহিদুল ইসলাম খানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে গোসাইরহাট থানা পুলিশ গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী মুঠোফোনে বলেন, টিটুর বাবা আব্দুল জলিল সরদার বাদী হয়ে গোসাইরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার আসামি জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।বাকি আসামীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ