২০, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

‘আওয়ামী লীগের জন্ম দেশি-বিদেশি গোয়েন্দাদের ল্যাবরেটরিতে’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এর উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম ও বিকাশ দেশি-বিদেশি গোয়েন্দাদের ল্যাবরেটরিতে। হাছান মাহমুদ সাহেব আপনি ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী রচিত বইটি পড়ে দেখুন, কীভাবে তিনি জেনারেল মঈনউদ্দিকে ম্যানেজ করেছিলেন শেখ হাসিনার পক্ষে। ভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা কীভাবে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে সহযোগিতা করতে পারে?

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন- ‘পাকিস্থানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিএনপির দহরম-মহরম বহু পুরনো’। হঠাৎ করে তথ্যমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্ভট বক্তব্য জনগণের মনে ঘোরতর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। মনে হয়, তার মন্ত্রিত্ব এখন টালমাটাল অবস্থায় আছে। আওয়ামী মন্ত্রীদের বিচারবুদ্ধি নিয়ে জনগণের মাঝে নানা কথা প্রচলিত আছে। তারা যখন খুব বিচলিত ও বেকায়দায় পড়ে তখনই তারা ষড়’যন্ত্র তত্ত্ব আবিষ্কার করে।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী মন্ত্রীদের কপালে দু’শ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের মুরুব্বি পরিবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সুতরাং সব কূল হারিয়ে সরকার মনে হয় স্বস্তিতে নেই। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা এড়াতেই তথ্যমন্ত্রী বিদেশে ষড়’যন্ত্র তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। আওয়ামী তথ্যমন্ত্রী হাওয়া থেকে পাওয়া তথ্য দিতেই পারঙ্গম।

আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আপনার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন- আমি ভারতকে যা দিয়েছি, তা সারাজীবন মনে রাখবে। কিন্তু তিনি দেশের জন্য কী কী জিনিস দিয়েছেন তা কিন্তু বলেননি। সুতরাং বিদেশিদের সঙ্গে দহরম-মহরম করে গদি টিকিয়ে রাখার নম্বর ওয়ান ব্যক্তি হচ্ছেন শেখ হাসিনা।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার অলি-গলি খুঁজছে’। বিএনপি অলি-গলি খুঁজবে কেন? বিএনপি তো অ’বৈধ সরকারের পত’নের জন্য প্রশস্ত রাজপথেই আন্দোলন করছে। ষড়’যন্ত্র ও চক্রা’ন্তের মাধ্যমে রাজোচিত জীবন নির্বাহ যাতে ব্যা’হত না হয় সেজন্যই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা কানা গলি দিয়ে কখনও বিনা ভোটে কখনও নিশিরাতের ভোটে ক্ষমতায় আছেন।

তিনি বলেন, অলি-গলি ওবায়দুল কাদের সাহেবদেরকেই অবলম্বন করতে হয়। কারণ তারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে দুঃসহ জীবন-যাপনে বাধ্য করে অ’বৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ওবায়দুল কাদের সাহেবদেরকে চক্রা’ন্তের জন্য অলি-গলি পথ অবলম্বন করতে হয় এ জন্য যে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এখন দুর্নীতির জয়জয়কার, রাজরোষে বিরো’ধী মত ও ব্যক্তিরা জেলে, বিচার বিভাগকে করা হয়েছে সরকারের হাতের খেলনা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শুধুমাত্র সরকার ও সরকারপ্রধানের নিজস্ব বরকন্দজে পরিণত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এখন জনগণের আত’ঙ্কের নাম।

রিজভী বলেন, শান্তিবিনাশী সমাজবিরো’ধীদের দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ এরা সরকারি দলের লোক। এই দুঃশাসনে জনগণের মধ্যে ক্রো’ধবহ্নি দাউদাউ করে জ্বলছে। এটা ইতিহাসে প্রমাণিত- অ’বৈধ শাসনের অবসান ঘটাতে জনগণের প্রতিজ্ঞা কখনওই নি’ষ্ফল হয়নি। অ’বৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা ওবায়দুল কাদের সাহেবরা মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখে লাফ দিয়ে উঠে আবোল-তাবোল বকতে থাকেন।

কারণ আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে প্র’তারণা করা। ওবায়দুল কাদের সাহেবের হুং’কারসর্বস্ব বক্তব্য যেন অন্ধকার রাতে ভূতের ভয়ে আর্ত চি’ৎকার করা।

সর্বশেষ নিউজ