২০, অক্টোবর, ২০২০, মঙ্গলবার

যেভাবে রাষ্ট্রনেতা থেকে বিশ্ব নেতা হয়ে উঠছেন শেখ হাসিনা

জাতিসংঘের ৭৫-তম সাধারণ সাধারণ অধিবেশন চলছে, এতে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩য় বিশ্বের একটি জনবহুল দেশ, বাংলাদেশ। ভূ-রাজনীতিতে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এক সময় গুরুত্বহীন ছিল। বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়াটা ছিল স্রেফ একটি আনুষ্ঠানিকতা। এ নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়া, অন্য কোন দেশের তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু এবার পরিস্থিতিটা যেন ভিন্ন। এবার জাতিসংঘের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভার্চুয়ালি। এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি একাধিক সাইড লাইনে বক্তব্য রেখেছেন এবং প্রতিটি বক্তব্যেই তিনি যেন বিশ্ব বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

আর সে কারণেই সাধারণ পরিষদে শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আগ্রহের কমতি নেই। নানা কারণেই শেখ হাসিনা এখন বিশ্বে প্রভাবশা’লী নেতায় পরিণত হয়েছেন। শুধুমাত্র নারী নেতা এই জন্য নয়, বরং প্রান্তিক, দরিদ্র ও বিপ’র্যস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি যেন আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি যেন এখন হতদরিদ্র, ব’ঞ্চিত মানুষের একক নেতায় পরিণত হয়েছেন। আর এভাবেই তিনি নিজেকে বিশ্ব নেতা হিসেবে আলোকিত করেছেন।

সাম্প্রতিক করোনা সং’কটের সময় শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিশ্বে আরও বেশি করে চর্চা হচ্ছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো শেখ হাসিনার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় তিনি যেমন নিবন্ধ লিখেছেন, তেমনি তাকে নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। আর এই প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, কেন শেখ হাসিনাকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলা হয়। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তার একটি হলো, জার্মানির অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল বা নিউজিল্যান্ডের জাসিন্ডা আরডার্ন যেমন বিশ্বে প্রশংসিত নেতা; কিন্তু দেশগুলোর জনসংখ্যা এতো কম যে, সেখানে সং’কটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় এত বেগ পেতে হয় না।

সেখানে এত বড় একটি জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন, সং’কট মোকাবেলা করছেন, তাতে তিনি বিশ্বে রোল মডেল হয়ে গেছেন। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শেখ হাসিনা কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এনেছেন। যে কারণে এখন তিনি একজন প্রভাবশা’লী এক বিশ্ব নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘের অধিবেশনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কয়েকটি মৌলিক বিষয় সামনে এনেছেন।

প্রথমত, ভ্যাক্সিন বৈষম্য যেন না হয়, সে ব্যাপারে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভ্যাক্সিন যেন আসে এবং তা যেন প্রান্তিক এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী পায়- তা নিশ্চিত করার কথা তিনি বলেছেন। যেটি বিশ্বে প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে তিনি উচ্চারণ করেছেন। ইতোমধ্যেই করোনা ভ্যাক্সিন নিয়ে একটি বৈ’ষম্যের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ধনী দেশগুলো আগাম অর্থ দিয়ে ভ্যাক্সিন কিনেছে; এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে। গরীব দেশগুলো ভ্যাক্সিন ব’ঞ্চিত হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে করোনা সং’কটের সঙ্গে যু’দ্ধ করতে হবে। সেই পরিস্থিতি যেন না হয়, সে ব্যাপারে শেখ হাসিনা আগাম সর্তকবার্তা দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা জলবায়ু মোকাবিলার জন্য আরও গুরুত্ব দেয়ার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, করোনা হলো প্রকৃতির প্রতিশো’ধ। আমরা যে প্রকৃতির উপর অত্যা’চার করে চলেছি তার ফলাফল। এই বাস্তবতায় শেখ হাসিনা যখন জলবায়ু প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন, তখন তিনি বিশ্ব বিবেকের কন্ঠস্বর হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছেন। সাইড লাইনের বক্তৃতায় শেখ হাসিনা যেমন ডিজিটাল বিশ্বের প্রসংশা করেছেন। ডিজিটাল বিশ্বের শক্তির কথা বলেছেন। একই সাথে তিনি ডিজিটাল বৈ’ষম্যের কারণে যে আবার নতুন করে দারিদ্রতা তৈরি হচ্ছে- সে প্রসঙ্গটিও উথাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের কথা আবার পুনঃ উচ্চারিত করেছেন।

২ বছরের বেশি সময় ধরে, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ রাখছে। বিশ্ব কূটনীতিতে এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই কারণে বাংলাদেশের ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনি আগ্রহ তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনার কৌশল, বিচক্ষণতা এবং তার বক্তব্য নিয়েও। তিনি যে বক্তব্যগুলো দিচ্ছেন তা শুধু যে বাংলাদেশের বক্তব্য, তা নয়। বরং বিশ্ব মানবতার কন্ঠস্বর হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

আর এ কারণেই শেখ হাসিনা এখন কেবল একজন বিশ্বনেতা হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি; বরং বিশ্বনেতা হিসেবে তিনি বিশ্বের নিপী’ড়িত জনগোষ্ঠীর কন্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ